ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ফুলসূতী ইউনিয়নের কাজিকান্দা গ্রামে ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত তোতা বিশ্বাসের ছেলে সোলেমান বিশ্বাস (৫৫) ও তার ছোট ভাই আমির বিশ্বাসের (৫০) মধ্যে ঘাস কাটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিরোধ তীব্র হলে আমির বিশ্বাস ধারালো দা দিয়ে সোলেমানের হাতে কোপ দেন। এতে তার হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত সোলেমান বিশ্বাসকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীর পরিবার নগরকান্দা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
নগরকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জামালপুরের মাদারগঞ্জে র্যাব ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ৪৬ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী বাজারে ব্যবসায়ী সাজেলের গুদামে অভিযান চালিয়ে এসব চাল উদ্ধার করা হয়। প্রশাসন সূত্র জানায়, সরকারি প্রকল্পের চাল অবৈধভাবে মজুতের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪ ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় গুদাম থেকে প্রায় ৪২ হাজার টাকা মূল্যের ৪৬ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের খবর টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী কৌশলে পালিয়ে যান। মাদারগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও বলেন, সরকারি চাল খোলা বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে গুদামজাত করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় পলাতক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধার করা চাল সরকারি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
বাগেরহাটের সুন্দরবনে বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত বনদস্যু ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান মো. জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীরকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে মংলা কোস্ট গার্ড বেইসে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কোস্ট গার্ড জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার গভীর রাতে শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে দুটি একনলা বন্দুক ও পাঁচ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, আটক জাহিদুল ইসলাম (৫৬) নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা বসতপুর গ্রামে পরকীয়া ও অর্থনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ইকরামুল কবির (২৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রায় ৩৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর গোয়ালঘরের মেঝের নিচ থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তাকে হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে ঢালাই দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চারজনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নিহত ইকরামুল যশোরের পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে। আটক ব্যক্তিরা হলেন—মুনী বেগম (২০), কাকলী বেগম (১৯), ফজলু মোড়ল (৫৫) ও ফরহাদ হোসেন (২৮)। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বসতপুর পূর্বপাড়ার আল ফুয়াদের স্ত্রী মুন্নীর (২২) সঙ্গে ইকরামুলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। প্রায় এক মাসের বেশি সময় আগে পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে মুন্নীর বাড়িতে গেলে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে নিখোঁজের ঘটনায় সন্দেহ সৃষ্টি হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আল ফুয়াদকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় বসতঘরের গোয়ালঘর থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেলেও এর পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য অন্যান্য জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।