বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রাথমিক অনুমোদনের পর দীর্ঘদিনের সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে। জুলাই মাস থেকেই ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অবসায়নের তালিকায় রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় শতভাগে পৌঁছেছে, যা আর্থিক খাতে বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ধাপে ধাপে গুটিয়ে আনা হবে এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় অবসায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২৭তম বিসিএস (২০০৫) পরীক্ষায় নিয়োগবঞ্চিত আরও ৯৬ প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। বুধবার (১৩ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১৮ মে’র মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্ধারিত দপ্তরে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগ না দিলে তা চাকরিতে অনাগ্রহ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং নিয়োগাদেশ বাতিল করা হবে। সরকার জানিয়েছে, ব্যাচের জ্যেষ্ঠতা সংরক্ষণের স্বার্থে এই নিয়োগ পূর্ববর্তী নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রথম প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে এ কারণে কোনো ধরনের বকেয়া আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, নিয়োগবঞ্চিতদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ ১ হাজার ১৩৭ জনকে নিয়োগের নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় এর আগে ৬৭৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
জুলাই আন্দোলন ঘিরে দায়ের করা আরও দুই মামলায় জামিন পাওয়ায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের মুক্তিতে থাকা শেষ আইনগত বাধাও দূর হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরীসহ অন্য আইনজীবীরা। এর আগে যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতি এবং দুদকের দায়ের করা দুর্নীতির মামলাসহ পাঁচ মামলায় দেওয়া জামিনও বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ হওয়ার পর নতুন দুই মামলায়ও জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে আটক হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন।
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক–এর বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে আদালত। ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪ আগামী ২১ জুন পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। রোববার (১০ মে) বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে মামলাটির চার্জগঠন বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এদিন কারাগার থেকে আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার সুমন হোসেন আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করে বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর আনিসুল হকের বাসভবনে লুটপাটের ঘটনা ঘটে এবং তার বৈধ লাইসেন্সধারী অস্ত্রও তখন হারিয়ে যায়। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহে সময় প্রয়োজন বলে আদালতকে অবহিত করা হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২১ জুন শুনানির নতুন তারিখ ধার্য করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, আনিসুল হকের নামে বনানী থানার অধীনে একটি বৈধ পিস্তলের লাইসেন্স ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য ইস্যুকৃত আগ্নেয়াস্ত্র থানায় জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি অস্ত্রটি জমা দেননি কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিতও করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(১) ধারায় বনানী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ সম্প্রতি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন।