বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কোনদিনই প্রভাব ফেলেনি এবং আশা করি এবারেও প্রভাব পড়বেনা এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের কালিবাড়ী এলাকায় তার নিজ বাসভবনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সুযোগ পায়নি। তাদেরকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়নি।
ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসার উদ্দেশ্য নিয়ে। মির্জা ফখরুল বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ, জুলাই যোদ্ধা নিহতদের কবর জিয়ারত ও আহত পরিবারের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এটাকে বলা যেতে পারে যে, তার ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা সফর।
তিনি আরো বলেন, এবারে একদিনেই নির্বাচন ও গণভোট হবে। যে সংস্কার নিয়ে গণভোট হচ্ছে এটি মূলত আমাদের পূর্বের কার্যক্রম ছিল। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। সেখানে না বলার মতো কোন কারণ আছে বলে আমার মনে হয় না।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, অবহেলিত অঞ্চলগুলোকে উন্নত করার জন্য বিএনপি আগেও কাজ করেছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে নিঃসন্দেহে আমাদের নেতা তারেক রহমান অবশ্যই চিন্তা করবেন এবং নির্বাচিত হলে উত্তরাঞ্চল সহ অবহেলিত অঞ্চলগুলোর উন্নয়নে আমরা কাজ করব।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অন্যান্যরা।
ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি হারুন-অর-রশীদ ও উপাচার্য মো. মশিউর রহমানের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংস্থার উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন জানান, দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গঠিত তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম তদন্ত চালাচ্ছে এবং অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা বিদেশে চলে গেলে অনুসন্ধান ব্যাহত হতে পারে। হারুন-অর-রশীদ প্রথমবার ভিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২০১৩ সালে এবং ২০১৭ সালে পুনরায় দায়িত্বে আসেন। ২০২১ সালে তিনি অবসরে যাওয়ার পর মশিউর রহমান উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে অব্যাহতির দিনে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্যে তিনি দাবি করেন, চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়কে ‘অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং একটি সিন্ডিকেট প্রভাব বিস্তার করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুলতান মাহমুদ অভিযোগ করেন, আশুলিয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী করা এবং রংপুরের একটি মামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়েও তিনি আপত্তি তোলেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো প্রভাবিত ও অনিয়মতান্ত্রিক। তবে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ ও আইনানুগ। ব্যক্তিগত বিদ্বেষবশত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমও অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করেছেন। নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ এলে তা পর্যালোচনা করা হবে।
রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিভিন্ন অসাংবিধানিক উদ্যোগ ও ষড়যন্ত্রের মুখে তিনি দৃঢ় ছিলেন, যার ফলে কোনো চক্রান্তই সফল হয়নি। সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মাধ্যমে তাকে অপসারণের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বিএনপি এবং তাদের জোটসঙ্গীরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় শতভাগ সমর্থন জানিয়েছিল। তিনি বলেন, “বিএনপি ও তাদের জোটের একাংশ আমার পাশে ছিলেন, তাই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে।” রাষ্ট্রপতি আরও জানান, ওই সময় তিন বাহিনীর প্রধানরা তাকে সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং বঙ্গভবনের সামনে মব সৃষ্টির পরও তারা দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশ সফর ও সরকারি অনুষ্ঠানে তাকে অংশগ্রহণে বাধা দিয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির সরকারি ছবি ও বাণী গণমাধ্যমে প্রচার বন্ধ করেছিল। সাহাবুদ্দিনের বক্তব্যে প্রতিস্পষ্ট হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা এবং সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, তবে তাঁর দৃঢ় অবস্থান ও রাজনৈতিক সহযোগিতার কারণে এসব ষড়যন্ত্র কোনো সুফল পায়নি।