ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সাবেক সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচিত কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে হত্যার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২৩ মার্চ বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন। এর আগে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচারের মামলায় তার কয়েক দফা রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল। তদন্তে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান তাকে আদালতে হাজির করেন এবং হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী মামলার সঙ্গে জড়িত এবং ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।” মাসুদ উদ্দিন আদালতে বলেন, “মামলায় আমার সামান্যতম সম্পৃক্ততা নেই।” আদালত তার বক্তব্যের পর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
হত্যা মামলায় অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর আওয়ামী লীগের ৫শ’–৭শ নেতাকর্মী দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। গুলিবিদ্ধ হওয়া আন্দোলনকারী দেলোয়ার হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই মারা যান।
এই রিমান্ডের মাধ্যমে তদন্তকারীরা হত্যার ঘটনার পলাতক আসামিদের অবস্থান ও প্রমাণ সংগ্রহে তৎপর হবেন।
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনাকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির নেতৃত্ব ও কৃতিত্বের দাবি তুলে বক্তব্য দিলে বিরোধী দলের সদস্যরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান এবং বক্তব্যের কিছু অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন—১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের ‘ফলাফল’ বিএনপির রাজনৈতিক অর্জনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, এসব আন্দোলনের ‘ট্রফি’ একমাত্র বিএনপির কাছেই রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যে পরিবর্তন এসেছে, তা বিএনপির নেতৃত্বের প্রতিফলন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান বিদেশে গিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনী সময়সূচি নির্ধারণ করেছেন—যা রাজনৈতিক নেতৃত্বের বাস্তব প্রতিফলন নির্দেশ করে। এ বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একাধিকবার আপত্তি জানিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু অংশকে ‘তথ্যগতভাবে অসত্য’ আখ্যা দিয়ে তা সংসদের কার্যবিবরণী (এক্সপাঞ্জ) থেকে বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক দাবি জানান। স্পিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, কার্যপ্রণালি অনুযায়ী বক্তব্য পর্যালোচনা করে অসংসদীয় বা অসত্য তথ্য পাওয়া গেলে তা কার্যবিবরণী থেকে অপসারণ করা হবে। বিতর্কের এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। স্পিকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সংসদ সদস্যদের শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে মতবিনিময়ের সুযোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তী পর্যায়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদানকালে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁদের দল গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে; তবে জনস্বার্থবিরোধী বা অসত্য বক্তব্যের বিরুদ্ধে সংসদীয় বিধি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। সংসদীয় কার্যপ্রণালি অনুযায়ী, আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও তা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে উপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে স্পিকার সংসদ সদস্যদের সংযত থেকে বক্তব্য প্রদানের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, “রাজপথে আল্টিমেটাম দেওয়া যায়, সংসদে নয়”। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার এই মন্তব্য করেন। বিষয়টি ভোলায় জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদা গ্রেফতারের পর সংসদে উত্থাপিত হয়। স্পিকার বলেন, “উপর্যুক্ত বিষয়গুলো সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। এটি পয়েন্ট অফ অর্ডার নয়।” প্রয়োজনে বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পিকার উল্লেখ করেন। এর আগে, রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে ভোলায় নিজের বাসা থেকে সাওদা সুমিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করেন। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতারের কোনো স্পষ্ট অভিযোগ না থাকায় স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয় সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট মো. আবুল হাসানের নিয়োগ বাতিল করেছে। সলিসিটর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তিনি উক্ত পদ থেকে অব্যাহতি পাবেন এবং আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগে ব্যক্তিগত কারণে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম ও আহমদ মুসাননা চৌধুরী পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিয়েছিলেন।