নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত রেলপথের অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংগুলো ক্রমেই ভয়াবহ জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত রেলগেট, গেটম্যান ও আধুনিক সতর্ক সংকেত না থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব ক্রসিং পারাপার করছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রায় ৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে অনুমোদিত লেভেল ক্রসিং রয়েছে ৩৬টি। এর মধ্যে মাত্র ১৩টিতে গেটম্যান থাকলেও বাকি ২৩টি সম্পূর্ণ অরক্ষিত। অধিকাংশ ক্রসিংয়ে নেই স্থায়ী রেলগেট, স্বয়ংক্রিয় সংকেত কিংবা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা।
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার (জিআরপি) তথ্যমতে, ২০২৫ সালে নীলফামারী জেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালে একই রেলপথে প্রাণহানি ঘটে ২৪ জনের। স্থানীয়দের হিসাব অনুযায়ী, গত তিন বছরে এই রেলপথে অন্তত ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রাত ও কুয়াশাচ্ছন্ন সময়ে ট্রেন আসার আগাম কোনো সতর্কতা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অনেক ক্রসিং জনবহুল এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।
সৈয়দপুর রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, জনবল ও বাজেট সংকটের কারণে সব ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগ সম্ভব হয়নি। তবে দুর্ঘটনাপ্রবণ ক্রসিংগুলোর তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত গেটম্যান নিয়োগ, স্বয়ংক্রিয় রেলগেট ও আধুনিক সতর্ক সংকেত ব্যবস্থা চালু না করলে এই রেলপথে প্রাণহানি কমানো কঠিন হবে।
দেওয়ানগঞ্জের সানন্দবাড়ী মন্ডলপাড়া এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি চলছে। স্থানীয়রা জানান, আগামী বর্ষা মৌসুমে নদের গতিপথ পরিবর্তন হলে ভাঙন আরও ভয়ঙ্কর হবে। রোববার (১১ জানুয়ারি) স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৫ জন শ্রমিক নদের পাড়ে মাটি কেটে ট্রলি ভরছে। শ্রমিকদের ভাষ্য, ২৫ দিন ধরে তারা মাটি বিক্রি করছেন। প্রতি গাড়ি মাটি বিক্রির টাকা ৪৭০ টাকা, এর মধ্যে শ্রমিকদের দেওয়া হয় ২৭০ টাকা এবং জমির মালিকের পরিবারের কাছে যায় ২০০ টাকা। তবে মাটি কাটার কোনো অনুমতি নেই। একাধিক স্থানীয় বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে মন্ডলপাড়ার শতাধিক বাড়িঘর নদের গর্ভে বিলীন হয়। অবৈধ মাটি ব্যবসা বন্ধ না হলে এবারের বর্ষায় ক্ষয় আরও বাড়বে। চর আমখাওয়া ইউনিয়নের ভূমি অফিসের নায়েব শফি কামাল জানান, সমস্ত অবৈধ মাটি-বালু ব্যবসায়ীদের বারবার সতর্ক করা হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল ইসলাম বিষয়টি অবগত আছেন। শীঘ্রই ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল জরিমানা ও দণ্ড প্রদান করে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা হবে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে গত তিন দিন ধরে মাছ বাজার বন্ধ রয়েছে। এর ফলে মানুষের পাতে মাছ উঠছে না। রোববার (১১ জানুয়ারি) ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে সমস্যা তুলে ধরেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের গোলাহাট এলাকার ওয়াকার (৪০) নামের এক যুবক দোকান প্রতি ৪০–৫০ টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। চাঁদা না দিলে মাপের যন্ত্রপাতি নিয়ে নেন এবং কারও সঙ্গে মারপিটও করেন। মিছিল ও সমাবেশে বক্তারা চাঁদাবাজ গ্রেফতারের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান। সৈয়দপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা সাময়িকভাবে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র সংঘাতের জেরে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তজুড়ে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে টানা গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের প্রভাব পড়ছে হোয়াইক্যংসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায়। শনিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রোববার (১২ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ভারী অস্ত্রের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের শব্দে বসতঘর কেঁপে ওঠে এবং ছোড়া গুলির কিছু অংশ এপারের চিংড়ি ঘের ও কৃষিজমিতে এসে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী জনগণকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। উপজেলা প্রশাসনও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।