গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না।
ট্রাম্পের যুক্তি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না এলে সেখানে রাশিয়া বা চীন প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে মালিকানা প্রয়োজন—লিজ বা আংশিক নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়।
রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত গ্রিনল্যান্ড কেনার অর্থনৈতিক দিক নিয়ে আলোচনা না হলেও ভবিষ্যতে বিষয়টি আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে। এর আগেও ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী এর নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত। তবে প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক অবস্থান ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
বিল গেটস সম্প্রতি এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে অতীতের কিছু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, যা নতুন করে আলোচনায় এসেছে জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের প্রেক্ষাপটে। গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ‘টাউন হল’ সভায় তিনি স্বীকার করেন, অতীতে দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ওই নারীরা এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভুক্তভোগী ছিলেন না এবং তার সঙ্গে কোনো অবৈধ লেনদেন বা অনৈতিক কার্যক্রমে তিনি জড়িত ছিলেন না। ফাউন্ডেশনের এক মুখপাত্র লিখিত বিবৃতিতে স্বীকারোক্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, যৌন অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও এপস্টিনের সঙ্গে গেটসের একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছিল। গেটসের ভাষ্য অনুযায়ী, দাতব্য কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত আলোচনাই ছিল ওই বৈঠকগুলোর উদ্দেশ্য। সভায় তিনি বলেন, একজন দণ্ডিত অপরাধীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের সেই বৈঠকে যুক্ত করা ছিল “গুরুতর বিচারিক ও নৈতিক ভুল”। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশের পর গেটসের ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে মেহালন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস-এর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ নিয়েও নতুন করে জনমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বিভিন্ন কৌশলগত বিকল্প থাকছে। ভারতের এক্সিওজের তথ্যভিত্তিক এনডিটিভি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও সম্ভাব্য উত্তরসূরি পুত্র মোজতবা খামেনি-সহ শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃত্বকে টার্গেট করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন পক্ষ সীমিত সমৃদ্ধকরণের চুক্তিতে রাজি হতে পারে, তবে তা নিশ্চিত করতে হবে যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পথ বন্ধ থাকে। সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ সামরিক সমাবেশ চলছে, এবং ইসরায়েলও সম্ভাব্য যৌথ পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় এখনও মূল বিষয়—ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার—সমাধানহীন রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি হবে, যা রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রকে উপস্থাপন করা হবে।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে, কারণ মার্কিন বাহিনী সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিলেই অভিযান শুরু হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং সেনা মোতায়েন করছে পেন্টাগন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ইরানের ক্ষেত্রে সব অপশন খোলা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও প্রতিশোধমূলক সক্ষমতার কারণে অভিযানের ঝুঁকি অনেক বেশি। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তেহরানের ভূখণ্ডে হামলা হলে যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হবে। এ পরিস্থিতিতে গত বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালু থাকলেও যুদ্ধের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে।