ভোলার লালমোহন উপজেলায় রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর রায়চাঁদ বাজার এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হস্তক্ষেপ করে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও বিডিপি পৃথক সংবাদ ব্রিফিংয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা উসকে দেওয়া, পরিকল্পিত সহিংসতা এবং নির্বাচন বানচালের অভিযোগ তোলে।
পুলিশ জানায়, জুমার নামাজের আগে একটি দাওয়াতি কার্যক্রমকে ঘিরে প্রথমে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র সংঘাতের জেরে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তজুড়ে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে টানা গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের প্রভাব পড়ছে হোয়াইক্যংসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায়। শনিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রোববার (১২ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ভারী অস্ত্রের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের শব্দে বসতঘর কেঁপে ওঠে এবং ছোড়া গুলির কিছু অংশ এপারের চিংড়ি ঘের ও কৃষিজমিতে এসে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী জনগণকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। উপজেলা প্রশাসনও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
টাঙ্গাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যার প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজন করা এই বিক্ষোভ মিছিল শহরের শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের হবিবুর রহমান প্লাজার সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের প্রার্থী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। নেতা-কর্মীরা ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙে দাও’ এবং ‘আমরা সবাই মুছাব্বির হবো’ সহ প্রতিবাদী স্লোগান দেন। জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম খান ঝলক ও সদস্য সচিব সালেহ আহমেদ শাফী ইথেনসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্যে খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। মিছিলে জেলা, উপজেলা ও শহর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, সমাজের সার্বিক সহযোগিতা না পেলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। আসামি গ্রেফতারে পুলিশের ওপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের চাপ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে বিভাগে কর্মরত পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। আইজিপি বলেন, পুলিশ যদি বাধাহীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, তাহলে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন সম্ভব হবে। তিনি জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত পুলিশের হারানো এক হাজার ৩৩০টি অস্ত্র এবং গত এক মাসে দেশি-বিদেশি ২৫১টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এ সময় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।