ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পোস্টে দাবি করা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি ওই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক ও যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং সেনাবাহিনীও তাকে সমর্থন দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ঘিরে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বৈধতা, সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রশ্নে লাতিন আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
হজ ব্যবস্থাপনায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছে—নির্ধারিত ‘হজ ভিসা’ ব্যতীত অন্য কোনো ভিসার মাধ্যমে পবিত্র হজ পালন আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। রোববার (১২ এপ্রিল) জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, হজে অংশগ্রহণের একমাত্র বৈধ মাধ্যম হলো সরকার অনুমোদিত হজ ভিসা। ভিজিট, ট্রানজিট, ওমরাহ কিংবা টুরিস্ট ভিসা ব্যবহার করে হজের আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং এ ধরনের প্রচেষ্টা আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে গণ্য হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবের অভ্যন্তরে অবস্থানরত নাগরিক ও প্রবাসীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অনুমোদনবিহীন বা প্রতারণামূলক চ্যানেলের মাধ্যমে হজ সংক্রান্ত বুকিং বা নিবন্ধনের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে “বার্থ ট্যুরিজম” বা সন্তান জন্মের মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ প্রক্রিয়াকে ঘিরে গড়ে ওঠা সংগঠিত নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও দমন করতে নতুন বিশেষ অভিযান শুরু করেছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় “বার্থ ট্যুরিজম ইনিশিয়েটিভ” চালুর কথা জানিয়েছে, যার আওতায় ভিসা জালিয়াতি ও গর্ভবতী নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করা হবে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রম করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রশাসনের দাবি, বর্তমান নীতির অপব্যবহার রোধ করতেই এই পদক্ষেপ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, সন্তান জন্ম দেওয়া নিজে অবৈধ নয়; তবে ভিসা আবেদন বা অভিবাসন প্রক্রিয়ায় প্রতারণা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। রিপাবলিকান শিবির জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নীতিতে সীমাবদ্ধতা আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী দীর্ঘদিনের আইনি নজির এই অধিকারকে সমর্থন করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান কাঠামোকে কেন্দ্র করে “বার্থ ট্যুরিজম” বাড়ছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সময়ের দাবি। বিষয়টি বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নমনীয়তা ও সদিচ্ছা প্রদর্শন করলেও ইরান মার্কিন শর্ত মানতে সম্মত হয়নি। ভ্যান্স বলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও মূল ইস্যুতে মতপার্থক্য থেকেই গেছে। তাঁর ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সুস্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করেছিল, যা এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার প্রদর্শন না করায় আলোচনায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা স্থায়ীভাবে সীমিত রাখা। সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স জানান, আলোচনায় ইরানের জব্দকৃত সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এলেও কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। ফলে ২১ ঘণ্টাব্যাপী এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। বৈঠক শেষে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক মহলে এই অচলাবস্থাকে ভবিষ্যৎ আলোচনার সম্ভাবনার ওপর বড় ধরনের অনিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।