বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) সভাকক্ষে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে “গণভোট–২০২৬ এর জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অফিস ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক ইনহাউজ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল সেশন পরিচালনা করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. আনোয়ারুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও অতিরিক্ত সচিব এম. এ. কামাল বিল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বিএসইসির পরিচালক (অর্থ) মো. ওসমান গনি, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বিপিএএ, পরিচালক (বাণিজ্যিক) বিশ্বাস রাসেল হোসেন এবং পরিচালক (উৎপাদন ও প্রকৌশল) ড. মো. বেলাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএসইসির ৯ম গ্রেড থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণে অংশ নেন। পাশাপাশি পিআইএল, এনটিএল, বিবিএফএল, এবিএল ও ঢাকা স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা সরাসরি এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুমের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।
প্রশিক্ষণে শিল্প সচিব গণভোটের ইতিহাস, প্রয়োজনীয়তা, সাংবিধানিক গুরুত্ব ও সঠিকভাবে ভোটদানের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যার সফল বাস্তবায়নে জনসচেতনতা অপরিহার্য।
বিএসইসি চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গণভোট–২০২৬ সম্পর্কে বাস্তবধর্মী ধারণা ও দায়িত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীকলস গ্রামের এসএম কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় যুবলীগ নেতা সুমন ও তার ফুপাতো ভাই মুক্তি তার ৯.২২ একর জমি জোরপূর্বক চিংড়ি ঘেরের জন্য দখল করছেন এবং পাওনা ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৪২১ টাকা পরিশোধ করছেন না। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কামরুল ইসলাম বলেন, ১৯৯৫ সাল থেকে তার জমিতে চিংড়ি ঘের শুরু হয়। তবে বর্ধিত সময়ের পাওনা টাকা দিতে তারা বারবার অনীহা প্রকাশ করেন। দাবি না মানায় তারা তার বাড়ির সামনের চলাচলের পথও বন্ধ করে রেখেছে। তিনি আদালতের নির্দেশে সাতক্ষীরা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন, যাতে তার জমি উদ্ধার ও পাওনা টাকা দ্রুত পরিশোধ করা হয়। এছাড়াও বাড়ির সামনে চলাচল বাধাগ্রস্ত না করার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। মামলা নং-৫৯০/২৫ অনুযায়ী স্থানীয় ওসি ডিবি ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।
টাঙ্গাইলে ‘গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল এই কর্মশালার আয়োজন করে। প্রশিক্ষণে জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। রিসোর্স পার্সন হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন প্রেস কাউন্সিলের সচিব (উপ-সচিব) মো. আব্দুস সবুর। কর্মশালায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকালীন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, প্রেস কাউন্সিল প্রণীত আচরণবিধি, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০১৪ ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন নয়, ঐক্যবদ্ধতা জরুরি। সাংবাদিকতা স্বাধীন পেশা; ফ্রিল্যান্সার হিসেবে দেশসেবায় কাজ করা সম্ভব, কোনো প্রেসক্লাব বা সংগঠনে বাধ্য হয়ে সংযুক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই।” শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
পৌষ সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শেরপুরে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী মাছের মেলা। কুশিয়ারা নদীর তীরে আয়োজিত এই মেলা এখন শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বরং এ অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত থেকে শুরু হয়ে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত চলা এ মেলা সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের শেরপুর বাজারসংলগ্ন মাঠ ও নদীর পাড়জুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, মেলার ইতিহাস প্রায় একশ বছর হলেও প্রবীণদের অনেকে এর বয়স দেড়শ থেকে দুইশ বছর বলে দাবি করেন। মেলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা বাঘাইড়, বোয়াল, আইড়, চিতল, কাতলা, রুইসহ নানা প্রজাতির বড় দেশি মাছ বিক্রি করছেন। মাছের আকার ও প্রজাতিভেদে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। এ বছর একটি বড় বাঘাইড় মাছের দাম হাঁকা হয়েছে এক লাখ টাকা। মাছের পাশাপাশি মেলায় কৃষিপণ্য, পিঠাপুলি, বাঁশ–বেত ও কাঠের সামগ্রী, খেলনা, শীতবস্ত্রসহ নানা লোকজ পণ্যের দোকান বসেছে। প্রতিদিন মৌলভীবাজারসহ আশপাশের জেলা থেকে কয়েক লাখ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় ভিড় করছেন। মেলার ইজারাদার আব্দুল হামিদ জানান, এ বছর প্রায় ২০টি পাইকারি ও আড়াই শতাধিক খুচরা মাছের দোকান বসেছে। কয়েক কোটি টাকার বেচাকেনার আশা করছেন আয়োজকেরা। মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব হাসান বলেন, প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে মেলার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা হয়েছে। মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় হাওর ও কুশিয়ারা নদীর মাছ বিক্রির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই মেলা আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলায় পরিণত হয়েছে।