নীলফামারীর কৃষকরা এখন আগাম জাতের সরিষা ঘরে তুলতে ব্যস্ত। কম সময়ে ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এই চাষে তাদের আগ্রহ বেড়েছে। আগাম জাতের সরিষা করে বাম্পার ফলন পেয়েছে কৃষক। আলু চাষে লোকসানের কারণে অনেক কৃষক এখন সরিষা চাষে ঝুঁকছেন। কারণ এতে খরচ কম এবং লাভও বেশি হয়।
সরকারি প্রণোদনা, অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত জাতের কারণে বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষীরা। সাধারণত ডিসেম্বরের মধ্যভাগ থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত মাঠ থেকে সরিষা তুলে বাড়ির উঠোনে গাদি করে রাখেন কয়েকদিন। বেশী পেঁকে গেলে সরিষার দানা ফেটে গিয়ে প্রচুর অপচয় হয়। তাই কৃষকরা আধাপাঁকা অবস্থায় সরিষা সংগ্রহ করেন। কিছুদিন রাখার পর সোনালী রঙে পূর্ণ হলে তখন মাড়াই করেন। তাই নীলফামারীর কৃষকরা আগাম জাতের সরিষা তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই ফসল স্বল্প সময়ে ভালো ফলন ও উচ্চ বাজারমূল্য পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এর চাহিদা বাড়ছে, বিশেষ করে সরকারি সহায়তা, উন্নত বীজ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সরিষায় বাম্পার ফলন হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ৬টি উপজেলায় আগাম জাতের সরিষা বারী-০৯, ১৪, ১৫ ও ১৮ এবং টোরী -০৭ জাতের সরিষা নীলফামারী জেলায় চাষাবাদ করা হয়েছে। এবারে গোটা জেলায় ৯ হাজার ২৩ হেক্টর জমিতে সরিষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা এ পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদ হয়েছে। বাম্পার ফলনের কারণে কৃষকের মুখে হাসি ফুঁটে উঠেছে। এই এলাকায় গত বছর চাষাবাদযোগ্য বিস্তর জমিতে আলু চাষাবাদ করে লোকসানের মুখে পড়ে অনেকে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরিষা চাষাবাদে ঝুঁকেছে। জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের নারী উদ্যোক্তা চাষী শামিমা নাসরিন জানান, প্রতি বছর প্রায় সব জমিতে আলু চাষ করতাম। আলুর দরপতনের কারণে তিন বিঘা জমিতে আগাম জাতের সরিষা চাষ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠ থেকে ফসল তুলে উঠোনে গাদি করে রেখেছি। এর মধ্যে মাড়াই করব। আশা করি বিঘা প্রতি পাঁচ থেকে ছয় মণ পর্যন্ত সরিষার ফলন হবে। নীলফামারী সদর ইউনিয়নের কঢ়ুকাটা ইউনিয়নের মানুষগড়া গ্রামের সরিষা চাষী মোসফিকুর রহমান জানান, আমি প্রতিবছর সরিষার চাষাবাদ করি। এবারে আগাম করে ফলন খুব ভালো পেয়েছি। নিরানী, সেচ, সার, মাড়াই খরচ বাদ দিয়েও স্বল্প সময়ে ভালো লাভ আসে সরিষায়। জ্বালানীর জন্য সরিষা গাছের খড়ের জুড়ি নেই। সংসারে বড় কাজে আসে। বাড়ীরও খাঁটি ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ হয়। এ জন্যই আমি প্রতিবছর সরিষা চাষাবাদ করি। উপশী জাতের ধান কাটার পরেই আগাম জাতের সরিষা রোপণ করেছিলাম।
নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপচালক মো. মঞ্জুর রহমান জানান, আমরা প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের উন্নতমানের বীজ সরবরাহ করেছি। জেলায় উপশি জাতের চাষাবাদ ব্যাপক হয়। স্বল্প খরচে কৃষকরা সরিষা চাষাবাদ করতে পারেন। ধান কাটার ১৫ দিন আগে বিঘা প্রতি দেড় কেজি পর্যন্ত ধানক্ষেতে সরিষা বীজ ছিটিয়ে দিলে সিক্ত জমিতে সরিষা হয়। এতে সেচ ও নিরানী অনেক সময় প্রয়োজন হয় না। ধান কাটলেও ছোট সরিষার গাছের কোনো ক্ষতি হয় না। এতে খরচও সাশ্রয় হয় এবং আগাম বাম্পার ফলন পাওয়া যায়।
পঞ্চগড়ে সরকারি অডিটোরিয়ামে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গণভোট প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভায় নৌপরিবহন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সকল নাগরিককে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও শহীদদের মর্যাদা দেশের মানুষ কোনোভাবেই ভুলতে পারে না।” তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেবল নির্বাচনের সঞ্চালক হিসেবে কাজ করছে এবং জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরই সরকারের মূল লক্ষ্য। ড. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, “গণভোট কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা। ত্রয়োদশ সংসদের যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তারা অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে।” সভায় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানের সভাপতিত্বে পুলিশ, বিজিবি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে অংশগ্রহণকারীরা গণভোট সফল করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেন।
খুলনার রূপসা উপজেলার নন্দনপুরে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারি হেলাল বলেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলো জনগণের কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়ন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল ভিন্ন হতে পারে, তবে সকলকে নিরাপত্তা, শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি আরও বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত ও নৈতিক উন্নয়নের জন্য মানুষকে ধর্মের দিকে ফিরতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়া হবে এবং ইমাম, পুরোহিতদের বেতন-সম্মান নিশ্চিত করা হবে। আজিজুল বারি হেলাল মরহুম প্রেসিডেন্ট ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের অমূল্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাদের অবমূল্যায়ন করার চেষ্টা করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। তিনি তৎকালীন সময়ে জিয়াউর রহমানের খাল খননের উদ্যোগের উদাহরণ দিয়ে বলেন, খালের মাধ্যমে দেশের ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং বিদেশে চাল রপ্তানি সম্ভব হয়। প্রার্থী বলেন, নির্বাচিত হলে খুলনা-৪ মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও হানাহানি বা দ্বন্দ্ব থাকবে না; সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা হবে। অনুষ্ঠানটি শ্রীফলতলা ইউনিয়ন নাগরিক সমাজের আয়োজনে সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল মজিদের সভাপতিত্বে ও জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিল শেষে মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।
‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগানকে সামনে রেখে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের গুরুত্ব সাধারণ ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে জামালপুরে প্রচারণা চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ ভোটের গাড়ি। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের ফৌজদারী মোড়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘সুপার ক্যারাভ্যান’ বহরের এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। প্রচারণা অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী ও পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বক্তব্য দেন। জেলা প্রশাসক বলেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্কার বিষয়ে জনগণের মতামত জানতেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন প্রয়োজন কিনা, তা জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। ডিজিটাল ডিসপ্লে ও ভিডিও কনটেন্টের মাধ্যমে ভোটের গাড়িতে নির্বাচন ও গণভোটের গুরুত্ব, ভোট প্রদানের নিয়ম, কেন্দ্রের করণীয়-বর্জনীয় এবং গোপন ব্যালটের নিরাপত্তা বিষয়ে তথ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় সাধারণ ভোটারদের লিখিত মতামত ও গণস্বাক্ষরও সংগ্রহ করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইফতেখার ইউনুস, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মৌসুমী খানম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।