বাগেরহাটের ফকিরহাটে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ৯ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামী মোঃ রমজান মোড়ল (৭০) গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে তাকে ফকিরহাট মডেল থানা থেকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত রমজান মোড়ল উপজেলার কামটা গ্রামের মৃত পাচু মোড়লের ছেলে। পুলিশ জানায়, গত ৩০ অক্টোবর ২০২৫ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফকিরহাটে শিশুটি খেলতে গিয়ে তাকে অভিযুক্ত ব্যক্তি ফাঁকা বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এরপর ধারালো অস্ত্র (হাসুয়া) দেখিয়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। পাশের বাড়ির একজন নারী ছুটে আসলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।
ভিক্টিমের বাবা এ ঘটনার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ফকিরহাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার একমাত্র আসামী মামলার চার মাস পর চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে র্যাব-৭ গ্রেফতার করে ফকিরহাট থানায় হস্তান্তর করে।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এজাহারভূক্ত আসামীকে শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় এক প্রবীণ গৃহশিক্ষিকাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রাথমিক তদন্তে পরিকল্পিত হত্যার আলামত পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ফিরোজা খানম জোসনা (৬৮) নিজ বাসায় হাতুড়ি দিয়ে মাথা ও মুখে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নিহত হন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে কোনো ধরনের চুরি বা ডাকাতির প্রমাণ না পাওয়ায় তদন্তকারীরা এটিকে লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছেন। তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে নিহতের মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে পাওয়া একটি লম্বা কালো চুলকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা থেকে সম্ভাব্য অপরাধী শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজনদের চুলের নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, নিহত দীর্ঘদিন একা বসবাস করলেও তার ফ্ল্যাটের কিছু অংশ সাবলেটে ভাড়া দেওয়া ছিল। ফলে ওই বাসার ভাড়াটিয়া ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের চলাচল ও যোগাযোগের তথ্য প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিহতের স্বজনের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটির পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা বহুমাত্রিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে সিসিটিভি না থাকায় আশপাশের ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সবধরনের তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন পাহাড় থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে টেকনাফ-এর বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন আমিনুল ইসলাম রবি (১৯), মুজিবুর রহমান (৩৮) এবং নুর বশর (২০)। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পাহাড়ে কাজ করতে যাওয়া কিছু শ্রমিক প্রথমে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং পরে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নরসিংদীর বালুসাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণির ছাত্রী, ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত আবুল কালাম(৪০)কে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে বালুসাইর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। আটকের পর তিনি বলেন-‘ভুল করেছি, ক্ষমা করে দিন’। রোববার দুপুরেই নরসিংদীর বালুসাইর এলাকা থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায় মাধবদী থানা পুলিশ। ভুক্তভোগীর স্বজনেরা জানান, রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে শিশুটি বিদ্যালয়ে যায়, বিদ্যালয় ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে শিশুটিকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ কারি তার নিজ ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এসময় শিশুটির কান্নায় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ধর্ষণ কারিকে আটক করে। শিশুটিকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। এঘটনায় উত্তেজিত জনতা ধর্ষণ কারির বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে। আটক আবুল কালাম সদর উপজেলা বালুসাইর এলাকার মৃত হালিম মাস্টারের ছেলে। এ ঘটনায় স্বজনরা মিছিল শেষে ধর্ষণ কারীর ফাঁসি দাবি জানান। মাধবদী থানার ওসি মো.কামাল হোসেন বলেন, ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইপূর্বক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।