খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভুয়াছড়িতে দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধের জেরে সংঘর্ষে গুরুতর আহত বিমল কান্তি ত্রিপুরা (৫০) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. আব্দুর রশিদ ও মো. আল আমিন। এর মধ্যে আল আমিনকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা পুলিশের আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে ভূমি বিরোধজনিত। কোনো কুচক্রী মহল যেন এটিকে পাহাড়ি-বাঙালি ইস্যুতে রূপ দিতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি কায় কিসলু জানান, কমলছড়ি এলাকায় জমি পরিষ্কারকে কেন্দ্র করে মো. নুর ইসলামের সঙ্গে হোয়াই হলাঅং চৌধুরীর লোকজনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত বিমল ত্রিপুরা ও মো. আব্দুল বশিরকে চট্টগ্রামে পাঠানো হলে বিমল ত্রিপুরার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অপর মামলার আসামিরা ইতোমধ্যে জামিনে মুক্ত।
পুলিশ জানায়, ভূমির রেকর্ড যাচাই করে দেখা গেছে উভয় পক্ষের দাবিকৃত জমির দাগ ও চৌহদ্দির মধ্যে কোনো মিল নেই। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ভাঙ্গা উপজেলা-এর ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের আতাদি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আশরাফুজ্জামান ওরফে লিটু (৩৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে গ্রেফতারকৃত লিটু সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের একটি দল অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার থেকে সাতক্ষীরাগামী একটি বাস থেকে তাকে আটক করে। পরে তার ব্যাগ তল্লাশি করে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরিন আক্তার জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে এ রুটটি মাদক পরিবহনে ব্যবহার করছে চক্রগুলো। গত এক মাসে একাধিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আসামির বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানা-এ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নকল করে ভুয়া ওষুধের বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগে একটি প্রতারণা চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা ও চিকিৎসকদের ছবি ও কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করে যৌন উত্তেজক ওষুধের ভুয়া প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। অভিযানে চক্রটির কাছ থেকে একাধিক ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, সিম কার্ড, পেনড্রাইভ ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল প্রতারণার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও তৈরি ও প্রচার করে আসছিল, যেখানে খ্যাতনামা ব্যক্তিদের ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হতো। এরই মধ্যে ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যশোরে পারিবারিক বিরোধের জেরে শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি শহরের বেজপাড়া এলাকায় ঘটেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত সকিনা বেগম (৬০)-এর মরদেহ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) গভীর রাতে বাসার সামনে একটি বস্তার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করলে পরিবারের সদস্য মরিয়ম খাতুনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। নিহতের ছেলে শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি দোকানে বের হওয়ার আগে বাসায় ছিলেন শাশুড়ি ও স্ত্রী। সন্ধ্যায় ফিরে এসে শাশুড়িকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে গভীর রাতে বাসার সামনে বস্তাবন্দি মরদেহ পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মরিয়ম খাতুন পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার পর নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে যশোর জেলা পুলিশ।