নরসিংদীতে এক গ্যারেজে আগুন লেগে এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নরসিংদী সদর উপজেলার পুলিশ লাইনস এলাকায় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে রুবেল মিয়ার মটর গ্যারেজে এই ঘটনা ঘটে।
গ্যারেজের কর্মী চঞ্চল ভৌমিক (২৫) ঘুমিয়ে ছিলেন গ্যারেজে, অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা আগুন ধরালে তিনি অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। চঞ্চল কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের খোকন ভৌমিকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরের দিন সকালে চঞ্চলের দগ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। শনিভাময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি গ্যারেজের বাইরে থেকে মবিলমাখা কাপড় ও কাগজ জ্বালিয়ে আগুন ধরাচ্ছে এবং দূরে দাঁড়িয়ে তা পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় মেম্বার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর আল মামুন জানান, ভিডিও ফুটেজে যাকে দেখা গেছে, তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা এখনও নিশ্চিত নয়।
শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে বুধবার (১১ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে যশোর থেকে নারায়ণগঞ্জগামী ‘ঝিনাইদহ-ঢ ৪১-০০৪২’ নম্বরের দশ চাকার লরি ফেরি থেকে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। লরিটিতে প্রায় ২৪ হাজার লিটার বাম্প ওয়েল (তেল) মজুত ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, লরিটি ফেরি পার হয়ে সড়কের ঢালু অংশে উঠার সময় ব্রেক বিকল হয়ে যায়। ফলে তা পেছনের দিকে গিয়ে নদীতে তলিয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চালক শরীফকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। ঘাট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে নদী থেকে লরিটি উদ্ধার করতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
একটি জেলার চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা হলো ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসার কেন্দ্র এই প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু আধুনিক ভবন ও কোটি টাকার বাজেট থাকা সত্ত্বেও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের রক্ত সংগ্রহ কক্ষে রক্তদাতাদের হাতে স্ট্রেস বলের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে রক্তচাপ মাপার (বিপি) মেশিনের পুরনো, ফাটা ও নোংরা রাবারের বাল্ব। বিষয়টি শুধু একটি ছোট সরঞ্জামের অভাব নয়, বরং হাসপাতালের তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারই স্পষ্ট প্রতিফলন। রক্তদান একটি মানবিক কাজ। একজন মানুষ নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে অন্যের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের দায়িত্ব হলো তাকে স্বাস্থ্যকর ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু রক্ত সংগ্রহ কক্ষের বর্তমান চিত্রে সেই ন্যূনতম মানও রক্ষা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী রোগীর স্বজনদের বাইরে থেকে রক্তের ব্যাগ কিনে আনতে হয় এবং সরকারি ফি হিসেবে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা জমা দিতে হয়। প্রতিদিন বহু মানুষ রক্ত দিচ্ছেন এবং সেই অর্থও জমা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকশ টাকার স্ট্রেস বল বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা সম্ভব না হওয়াটা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতাল হলো জীবাণুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের স্থান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বহু মানুষের ব্যবহৃত একটি নোংরা বাল্ব ব্যবহার করানো স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এতে চর্মরোগসহ বিভিন্ন সংক্রমণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ছোট ছোট অব্যবস্থাপনাই ধীরে ধীরে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়। তারা দ্রুত রক্ত সংগ্রহ কক্ষের সরঞ্জাম আধুনিকায়ন ও সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি হাসপাতাল শুধু ভবন ও বাজেটের প্রদর্শনী না হয়ে সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে হবে।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশের অভিযানে পাঁচটি বস্তা থেকে ৮৬ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার চাটকিয়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপপরিদর্শক নুরুল আমিন ও রাসেল রৌহান চৌধুরী। পুলিশ জানায়, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মাদক পাচারের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মাথায় বহন করা পাঁচটি বস্তা ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে বস্তাগুলো থেকে মোট ৮৬ বোতল ভারতীয় ব্র্যান্ডের মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদ জব্দ করে নালিতাবাড়ী থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন এসআই নুরুল আমিন।