নীলফামারীর জলঢাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া কিবু (৪২)সহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় মেজর মাহমুদ শরীফ শিপলুর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দল জলঢাকা পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক কেনাবেচার সময় তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার অপরজন হলেন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ডালিয়া রোড নদীরপাড় এলাকার আজিজুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (৩৪)।
অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ১২ পিস ইয়াবা, ৪৮ পুরিয়া হেরোইন, মাদক বিক্রির নগদ ১০ হাজার ১৪০ টাকা, একটি সুজুকি হায়াতি (১১০ সিসি) মোটরসাইকেল, মাদক বিক্রির হিসাব খাতা এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, গোলাম কিবরিয়া কিবু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তার গ্রেফতারে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
মেজর মাহমুদ শরীফ শিপলু জানান, মাদকের বিস্তার রোধে যৌথ বাহিনী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধারকৃত আলামতসহ জলঢাকা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় অবস্থিত জেলার কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১১ মার্চ) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরের একাধিক কক্ষের তালা কেটে প্রতিমার স্বর্ণালংকার, রুপা ও দানবাক্সের নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৮ লাখ টাকার সম্পদ চুরি হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন জানান, চোরেরা মায়ের বাড়ি মন্দিরের কালীমন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, রাধাগোবিন্দ মন্দির ও জগন্নাথ মন্দিরের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর প্রতিমার বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও দানবাক্সের নগদ অর্থ চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—চার ভরি ওজনের দুই জোড়া স্বর্ণের বালা, এক ভরি ওজনের দুই জোড়া শাঁখা, চার আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল, আট আনা ওজনের একটি ‘মায়ের জিভ’, আট আনা ওজনের একটি চেন, দশ আনা ওজনের একটি নথ, চার আনা ওজনের দুই জোড়া পেটি, প্রায় পাঁচ ভরি রুপা এবং দানবাক্সের নগদ প্রায় সাত হাজার টাকা। মন্দির সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য দীপাসিন্ধু তরফদার বলেন, দুই দিন আগে শহরের কাটিয়া মন্দিরেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। বারবার এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সাতক্ষীরা সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। মন্দিরের কর্মকর্তা অসীম দাশ সোনা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীলফামারীতে ৪র্থ শ্রেণির শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষিতা ছাত্রী জেলার ডোমার উপজেলার পশ্চিম হলহলিয়া গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। এলাকাবাসী জানায়, মেয়েটির বাবা মা কাজের জন্য বাড়িতে ছিল না। এ সুযোগে ওই এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে আজিজুর রহমান নামের ৬০ বছরের এক ব্যক্তি বাড়িতে একা পেয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। সন্ধ্যার পরে মেয়ের বাবা মা বাড়িতে আসার পর মেয়েটিকে অসুস্থ দেখতে পেলে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তার বাবা মাকে মেয়েটি সব কিছু বলে দেয়। এলাকাবাসী কৌশলে আজিজাকে বাড়িতে ডেকে এনে বেঁধে রাখলে আজিজার ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। খবর পেয়ে ডোমার থানা পুলিশ ধর্ষক আজিজাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। ভিকটিমকে চিকিৎসার জন্য ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়। এ ব্যাপারে ডোমার থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই শৈলেন চন্দ্র আজিজারকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার প্রস্তুতি চলছে, ভিকটিমকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুর রাজ্জাক নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক আব্দুর রাজ্জাক (৭২) উপজেলার বহেরা গ্রামের মৃত সুজাত আলী সরদারের ছেলে। মামলার এজাহারে জানা যায়, ধর্ষিত কিশোরী আব্দুর রাজ্জাকের প্রতিবেশী। সেই সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতন করে আসছেন তিনি। পরে বিষয়টি জানা জানি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে ৪ মার্চ (বুধবার) দেবহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্তে মাঠে নেমে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাকে রাতেই গ্রেপ্তার করেন। এছাড়াও আব্দুর রজ্জাকের বিরুদ্ধে ইতঃপূর্বে একই ভিক্টিমের প্রতিবন্ধী বোন ও মাকে শারীরিক নিপীড়ন করার অভিযোগ রয়েছে। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আজ বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে আসামী তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে দুপুরে ভিক্টিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।