বাগেরহাট-৩ (রামপাল–মোংলা) আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের ফুলপুকুর মাঠে নির্বাচনী জনসভা করেছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করেন।
জনসভা পেড়িখালি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন,
“আগামীর বাংলাদেশ হবে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থার দেশ। রামপাল–মোংলার সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমি আজীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাব।”
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি, বৈষম্য ও অনিয়মমুক্ত সমাজ গঠনে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. ইকবাল হোসাইন ও শেখ মোহাম্মদ ইউনুস। এছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোল্লা রহমতুল্লাহ, রামপাল উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক মো. মাজিদুর রহমান জুয়েল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আলহাজ মল্লিক আব্দুল হাই, সেক্রেটারি মাওলানা জিহাদুজ্জামান জিহাদ, মোংলা উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. কোহিনুর সরদার, সাবেক ছাত্রশিবির নেতা মো. আসাদুজ্জামান আছাদ, মুক্তিযোদ্ধা রাজু আহমেদ, ছাত্রশিবির নেতা আহমদুল্লাহ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সকল স্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
সাতক্ষীরা-১ (তালা ও কলারোয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুর ইসলাম হাবিব তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে দিনব্যাপী তিনি নগরঘাটা ইউনিয়নের রাইসমিল, কালিবাবাড়ি, মটবাড়ি, মাঝনগরঘাটা, রথখোলা, গুচ্ছগ্রাম বসুন্ধারা, আসাননগর, হরিণখোলা ও গোয়ালপোতাসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ ভোটারদের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় হাবিবুর ইসলাম বলেন, অতীতে সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। গত ১৭ বছরে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকার অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করবেন। গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাব্বত আলী সরদার, সাধারণ সম্পাদক নাছিরুল জুলফিকার খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান মোড়ল, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এরশাদুল হক মিলনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বাগেরহাট-৩ (রামপাল–মোংলা) আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের ফুলপুকুর মাঠে নির্বাচনী জনসভা করেছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করেন। জনসভা পেড়িখালি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ হবে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থার দেশ। রামপাল–মোংলার সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমি আজীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাব।” তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি, বৈষম্য ও অনিয়মমুক্ত সমাজ গঠনে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. ইকবাল হোসাইন ও শেখ মোহাম্মদ ইউনুস। এছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোল্লা রহমতুল্লাহ, রামপাল উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক মো. মাজিদুর রহমান জুয়েল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আলহাজ মল্লিক আব্দুল হাই, সেক্রেটারি মাওলানা জিহাদুজ্জামান জিহাদ, মোংলা উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. কোহিনুর সরদার, সাবেক ছাত্রশিবির নেতা মো. আসাদুজ্জামান আছাদ, মুক্তিযোদ্ধা রাজু আহমেদ, ছাত্রশিবির নেতা আহমদুল্লাহ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সকল স্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যে নির্বাচনকালীন বহিষ্কারাদেশ জারি করেছে, সেটিকে নিছক কোনো সাময়িক বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ আর নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব বহিষ্কার স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে-দল এবার এমন এক আপোশহীন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে, যেখান থেকে পিছু হটার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। বিএনপির ইতিহাসে শৃঙ্খলার প্রশ্নে কঠোরতা নতুন নয়, কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা একেবারেই ভিন্নতর। এটি কেবল একটি নির্বাচনি কৌশল নয়, বরং দলীয় অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দর্শন রক্ষার একটি চূড়ান্ত পরীক্ষা। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন কিংবা দলের অবস্থানের বাইরে গিয়ে কার্যক্রম চালিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি আসলে একটি দীর্ঘমেয়াদি বার্তা দিতে চেয়েছে। এই বার্তাটি মূলত দলের ভেতরে ও বাইরে এক প্রকার ‘রাজনৈতিক সার্জারি’র সংকেত। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন আর ব্যক্তি-কেন্দ্রিক রাজনীতির ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। দলের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে উঠে কেউ নিজের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করতে চাইলে তার পরিণতি যে ‘বহিষ্কার’-এবার সেটি কথার লড়াই ছাড়িয়ে বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচন-উত্তর রাজনীতিতে পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব বহিষ্কারাদেশ হয়ত প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ধারণা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিএনপি বর্তমানে যে ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের পুনর্বাসন করা মানে হবে দলের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করা। তৃণমূলের যেসব নেতাকর্মী হামলা-মামলা ও জেল-জুলুম উপেক্ষা করে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত রয়েছেন, বিদ্রোহীদের পুনরায় ‘আদর করে’ ফিরিয়ে আনা হবে তাদের ত্যাগের প্রতি চরম অবজ্ঞা। দলীয় নেতৃত্ব সম্ভবত অনুধাবন করছে যে, এই মুহূর্তে নমনীয়তা দেখানো হবে আত্মঘাতী। এখানে একটি কঠিন সত্য নিহিত-রাজনীতিতে ব্যক্তি কখনোই অপরিহার্য নয়। একটি দল টিকে থাকে তার আদর্শ, সুদৃঢ় সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের ওপর ভিত্তি করে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন একটি সুশৃঙ্খল ‘চেইন অফ কমান্ড’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে, ‘দল মানেই শৃঙ্খলা, দল মানেই সিদ্ধান্তের প্রতি বিনম্র আনুগত্য’। যারা এই কাঠামোর বাইরে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তাদের জন্য ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতিতে জায়গা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে-এটাই স্বাভাবিক রাজনৈতিক বিবর্তন। বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনে করেছিলেন তাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা হয়ত দলের প্রতীক বা সিদ্ধান্তের চেয়ে বড়। কিন্তু বিএনপি এবার সেই ‘ব্যক্তি-ইমেজ’ ভেঙে ‘দলীয় সত্তা’কে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার নীতি নিয়েছে। এই শুদ্ধি অভিযান কেবল নির্বাচনি বৈতরণি পার হওয়ার জন্য নয়, বরং আগামী এক দশকের জন্য একটি সংহত ও আধুনিক রাজনৈতিক শক্তির রূপরেখা তৈরির প্রক্রিয়া। সবশেষে বলা যায়, নির্বাচনকালীন এই বহিষ্কারগুলো বিএনপির জন্য কোনো সাময়িক অধ্যায় নয়, এটি একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা। এই বাস্তবতায় তথাকথিত ‘বিদ্রোহী রাজনীতির কোনো স্থান নেই, আর ফেরার পথও আগের মতো মসৃণ নয়। শৃঙ্খলার এই নতুন দেয়াল টপকানো বিদ্রোহীদের জন্য কঠিন হবে। বিএনপি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে-এবার শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ‘কম্প্রোমাইজ’ নয়। এই অনড় অবস্থানই সম্ভবত আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির নতুন পরিচয় হয়ে উঠবে। লেখক: এ.আর. ইমরান, কলামিষ্ট