নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসে অবস্থিত ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) অন্তঃহাউস বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
কলেজ মাঠে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সচিব ড. কাইয়ুম আরা বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্টেশন কম্যান্ডেন্ট ও কলেজ চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ লে. কর্নেল সৈয়দ শফিউল ইসলাম মেরাজ।
২৩টি ইভেন্টে ৮ হাউসভুক্ত এক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ফজলুল হক হাউস চ্যাম্পিয়ন এবং নজরুল ইসলাম হাউস রানার্স-আপ হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মার্চপাস্ট প্রদর্শন ও প্রধান অতিথিকে সালাম প্রদানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি শিক্ষার্থীদের শারীরিক কসরত ও শিক্ষাগত অর্জনের প্রশংসা করেন। উল্লেখযোগ্য, এ বছর এসএসসিতে ৮০% এবং এইচএসসিতে ৮৭% শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার খুলনা-মাওয়া মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অত্যন্ত ৫ জন আহত হয়েছে। ১৩ মার্চ (শুক্রবার) পালেরহাট এলাকায় দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে চালকসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসে। অপরদিকে, মহাসড়কের বৈলতলী রাস্তার মাথা নামক স্থানে অপর একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে দুমড়ে মুচড়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, এসময় ট্রাক চালক ও হেলপার আহত হয়েছে। ফকিরহাটে উদ্বেগজনক হারে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাইওয়ে পুলিশের উদাসীনতা এবং দ্রুত গতির যানবাহন চলাচলের ফলে এমন ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করেন সচেতনমহল।
বাগেরহাটের মোংলার যে বিয়ে বাড়িতে এখন ছিল হইহুল্লোড় আর আনন্দ উৎসবের ভাগাভাগির প্রস্তুতি, সেখানে আজ কারো জন্য কান্নার পরিবারের কেউ বেঁচে নেই। এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে আব্দুর রাজ্জাক সহ তার পরিবারের ৮ সদস্যের প্রাণ। বাড়ির উঠান এখন লাশে ভর্তি, সারি সারি খাটিয়ায় শুয়ে আছে ৯ জনের নিথর দেহ। তাদের দাফনের অপেক্ষায় সবাই। যেখানে প্রস্তুতির কথা ছিল বধূবরণের, সেখানে নিষ্ঠুর নিয়তি বদলে দিয়েছে দাফন কাফনের মতো পরিস্থিতিতে। এখন সেই বাড়িতে শুধুই শোকের মাতম। বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। একই রকমের শোক চলছে হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মাইক্রোবাস চালক নাঈম শেখের রামপালের বাড়িতে। আলোচিত হৃদয়বিদারক এই সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসেন বাগেরহাট ৩ আসনের সংসদ সদস্য বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। সকালে তিনি নিহত মাইক্রোবাস চালক নাঈম শেখের বাড়িতে গিয়ে জানাজায় অংশ নেন। এছাড়া জুমার নামাযের পর মোংলার শেলাবুনিয়ায় নিহতদের জানাজাতে তিনি অংশ নেবেন। গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত দুই পরিবারের ১৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরে গভীর রাতে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ নেওয়া হয়েছে মোংলায়, ৪ জনের কয়রায় এবং মাইক্রোবাস চালকের মরদেহ নেওয়া হয়েছে রামপালে। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর আহাদুর রহমান সাব্বির, কনে মারজিয়া আক্তার মিতু, কনের বোন লামিয়া, নানি আনোয়ারা বেগম, দাদি রাশিদা বেগম, বরের বাবা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, আঞ্জুমান, পুতুল, ঐশী, শিশু ইরাম, সামিউল ও আলিফ এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম শেখসহ উভয় পরিবারের বেশ কয়েকজন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ভয়াবহ সেই সংঘর্ষে মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় বহু মানুষের জীবন, থেমে যায় বহু স্বপ্নের গল্প। কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানান, “এই মৃত্যুর ঘটনা খুবই মর্মান্তিক। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।” যে বাড়িতে আজ উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। হাসি-আনন্দের সেই উঠান আজ সাক্ষী হয়ে আছে এক নির্মম নিয়তির।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভোরে হঠাৎ বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে উপজেলার ২২টি ইটভাটার প্রায় ৫০ লাখ তৈরি করা কাঁচা ইট নষ্ট হয়েছে। এতে ইটভাটা মালিকরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। খাতামধুপুর ইউনিয়নের খিয়ারজুম্মা এলাকায় ইটভাটা মালিক মো. সোহেল রানার ভাটায় চার লাখ কাঁচা ইট হঠাৎ বৃষ্টিতে গলে যায়। কামারপুকুর ইউনিয়নের আরও ১০টি ইটভাটাতেও দুই থেকে আড়াই লাখ কাঁচা ইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোড়া ইটের জন্য রোদে শুকানো কাঁচা ইটও বৃষ্টির পানিতে গলে গেছে। কিছু ইট খামাল করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হলেও ঝড়ো হাওয়ার কারণে তা বহন হয়ে গেছে। ইটভাটা মালিকরা জানিয়েছেন, নষ্ট ইট পুনরায় তৈরি করতে অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হবে। এতে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি বেড়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত ইটের পরিমাণ ও বাজারের চাহিদার কারণে আগামীতে ইটের দামও বৃদ্ধি পেতে পারে। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, এই বৃষ্টিপাত কৃষি ক্ষতি না করলেও বিলম্বিত আলু ফসল কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৫৩টি ইটভাটায় এই বৃষ্টির কারণে ক্ষতি হয়েছে। মালিকরা আশা করছেন, সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতি মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ইট পুনর্নির্মাণে তাদের নিজস্ব ব্যয় ও শ্রম ব্যবস্থাপনা করতে হবে।