উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৪ আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র নির্বাচনী তৎপরতা। তবে বরাবরের মতো এবারও এই আসনে জয়–পরাজয়ের মূল নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে সৈয়দপুর শহরের ৬০ হাজারের বেশি অবাঙালি (উর্দুভাষী) ভোটার।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮১৪ জন। এর মধ্যে সৈয়দপুর উপজেলায় প্রায় আড়াই লাখ ভোটার রয়েছেন, যাদের বড় অংশ অবাঙালি জনগোষ্ঠীর। সৈয়দপুর পৌর এলাকার ২২টি ক্যাম্পে প্রায় ১৮ হাজার ভোটার এবং ক্যাম্পের বাইরে আরও কয়েক হাজার অবাঙালি ভোটার বসবাস করেন। এই ভোটের সমর্থন যে প্রার্থী পাবেন, তার জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে।
অতীতে অবাঙালি ভোটাররা বিএনপির বড় ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই চিত্র বদলেছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী সিদ্দিকুল আলম এবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে অবাঙালি ভোটারদের অবস্থান নিয়ে চলছে নানা হিসাব–নিকাশ।
ক্যাম্পবাসীরা বলছেন, ভোটের সময় গুরুত্ব পেলেও পরে তাদের সমস্যা উপেক্ষিত থাকে। এসপিজিআরসি সৈয়দপুর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ওয়াসিম রেজা বলেন, অবাঙালি ভোটাররা এখন সচেতন এবং বুঝেশুনে ভোট দিতে চান। উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজিদ ইকবাল বলেন, নতুন প্রজন্ম আর কোনো দলের স্থায়ী ভোট ব্যাংক হয়ে থাকতে চায় না।
ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা ক্যাম্পগুলোতে উর্দু ও বাংলা—দুই ভাষাতেই প্রচার চালাচ্ছেন। মাইকিং ও লিফলেটেও ব্যবহার করা হচ্ছে উর্দু ভাষা।

এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াই হবে বিএনপির আব্দুল গফুর সরকার, জাতীয় পার্টির সিদ্দিকুল আলম এবং জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল মুনতাকিমের মধ্যে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মামুন-অর রশিদ মামুন ও রিয়াদ আরফান সরকার রানাও আলোচনায় রয়েছেন।
সৈয়দপুরে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট বিভক্তির আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কিশোরগঞ্জ উপজেলা থেকে যে প্রার্থী বেশি ভোট আদায় করতে পারবেন, তিনিই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। শেষ পর্যন্ত ‘বিহারি ফ্যাক্টর’ কার পক্ষে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম মন্তব্য করেছেন, বিএনপি জাতীয় সংসদ কার্যক্রম শুরু করেছে জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদে স্পিকার সরকারি দল থেকে হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদল থেকে হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে, যিনি বিএনপি সমর্থিত এমপি।” সারজিস আলম আরও বলেন, “আজকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ করিয়েছেন সরকারের রাষ্ট্রপতি। এটি আমাদের জন্য মর্মাহত করার মতো ঘটনা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমাদের যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা বিবেচনায় রেখে এই পরিস্থিতি অনেক বেশি উদ্বেগজনক।” এদিন পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মেধাবৃত্তী পরীক্ষায় বিজয়ীদের হাতে ল্যাপটপ, বাইসাইকেল, ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির, জেলা ছাত্রশিবির ও কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে পারিবারিক সূত্রে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।
দলীয় নীতিমালা ও নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার স্থলে নতুন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দলীয় আমির শফিকুর রহমান-এর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে। তবে ওই চিঠিতে এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা আমিরের অনুমোদিত নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ কারণেই গত ২ মার্চ তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে ওই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান-কে। দলটির দাবি, সিদ্ধান্তটি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে গৃহীত হয়েছে। জানা গেছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। চিঠিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব আসায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলে গণমাধ্যমে জানা গেছে। বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে তা দ্রুত সংশোধনের নীতিতেই দলটি পদক্ষেপ নেয়।