বিশ্ব এখন আবার এক অজানা ভাইরাসের আতঙ্কে। কোভিড-১৯ এর দুঃসহ অভিজ্ঞতা এখনও সবার মনে তাজা। সেই রকমই আরেকটি ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে। যদিও এর নাম, প্রকৃতি ও বিস্তার এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি, তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন এটি সংক্রমণযোগ্য এবং মানুষের জীবনধারায় নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই নতুন ভাইরাস মূলত সর্দি, জ্বর, গলা ব্যথা ও ক্লান্তি দিয়ে শুরু হয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বমি, কিংবা দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে না পারলেও এ নিয়ে চলছে গবেষণা। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—আবার কি লকডাউন আসছে? আবার কি স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে? মাস্ক, স্যানিটাইজার, দূরত্ব—সব আবার শুরু?
এমন আতঙ্কের সময় সবচেয়ে প্রয়োজন সচেতনতা ও প্রস্তুতি। আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের উচিত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তোলা।
প্রথমেই আসি ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, বিশেষ করে বাইরে থেকে এসে, খাবার খাওয়ার আগে ও পরে। অ্যালকোহল-ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারও উপকারী। চোখ, মুখ ও নাক বারবার স্পর্শ না করাই ভালো, কারণ এখান থেকেই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
মাস্ক পরার অভ্যাস আবার গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে জনসমাগমপূর্ণ জায়গায় গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। এতে শুধু নিজেকে নয়, অন্যদেরও রক্ষা করা যায়। মনে রাখা দরকার, ভাইরাস বাহক ব্যক্তি নিজে অসুস্থ না হলেও অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম—এই সবগুলোই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ঘরে যদি ছোট বাচ্চা বা বৃদ্ধ কেউ থাকে, তাদের আরও বেশি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, কারণ এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না নেওয়াই ভালো। অনেক সময় গুজব বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্য মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুসরণ করাই সর্বোত্তম।
এছাড়া অফিস বা স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষেরও উচিত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে কঠোরতা আরোপ করা। যদি ভাইরাসটির প্রকোপ বাড়ে, তবে সরকার কর্তৃক নির্দেশিত নির্দেশিকা মানা জরুরি হবে। সবাই মিলে যদি সচেতনভাবে এগিয়ে আসে, তবে ভয় নয়, বরং দায়িত্ব নিয়েই এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
সবশেষে বলা যায়—নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক সত্য, কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও ভয়াবহ হতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মানা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন—এই তিনটি পথই আমাদের রক্ষা করতে পারে।
আপনার সচেতনতা মানেই আপনার পরিবারের নিরাপত্তা। আমরা যদি সবাই সচেতন থাকি, তবে একসঙ্গে এই সংকটও অতিক্রম করা সম্ভব।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইউরোপে বর্তমানে প্রচণ্ড গরমের যে ঢেউ বইছে, তা যেন আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। স্পেন, ইতালি, গ্রিস, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ দক্ষিণ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। এই অস্বাভাবিক গরমে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়, আর মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের তাপপ্রবাহ শুধু একটি স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন ঘটনা নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব। গত কয়েক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ইউরোপের আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপরে যেত না, এখন সেখানে ৪৫-৪৭ ডিগ্রিও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এমনকি অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা এতটাই বেড়েছে যে আগুন লেগে যাচ্ছে বনাঞ্চলে, আর দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দমকল বাহিনী। বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যে এই গরমে মৃত্যুহার বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ইতালির রোমে একদিনে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে শুধুমাত্র হিট স্ট্রোকের কারণে। ফ্রান্সে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য ঠান্ডা ঘর তৈরি করতে হচ্ছে, আর জার্মানির কিছু এলাকায় পানি সংরক্ষণের জন্য বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। গরমের প্রভাবে জনজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও পড়েছে বড় প্রভাব। রাস্তাঘাট ফাঁকা, অনেক অফিস ও দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে দুপুরের সময়। পর্যটন খাতে পড়েছে বড় আঘাত, কারণ বহু পর্যটক সফর বাতিল করছেন। কৃষিক্ষেত্রেও এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে—খরায় জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে, গবাদিপশু পানিশূন্যতায় মারা যাচ্ছে, আর কৃষকরা পড়েছেন দিশেহারা অবস্থায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন তীব্র গরম কেবল শুরু। যদি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এই হারে, তাহলে আগামী কয়েক দশকে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। অনেক দেশ এরইমধ্যে তাদের নাগরিকদের সচেতন করতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে—যেমন দুপুর ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাইরে না থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ও ঠান্ডা জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু পরামর্শ বা সতর্কতা যথেষ্ট নয়। অনেকেই বলছেন, এখনই যদি বিশ্ব নেতারা কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এ ধরনের বিপর্যয় আরও ঘন ঘন দেখা যাবে, এবং শুধু ইউরোপ নয়, গোটা পৃথিবীর মানুষকেই এর মূল্য দিতে হবে। ইউরোপে এই গ্রীষ্মের ভয়াবহ চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—জলবায়ু পরিবর্তন আর কোনো ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি এখনই ঘটছে, এবং এর প্রভাব এখনই আমাদের জীবনকে করে তুলছে হুমকির মুখে।
নিউইয়র্কের রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন একজন তরুণ, মুসলিম, প্রগতিশীল নেতা—জোহারান মামদানি। তার বয়স মাত্র ৩৩ বছর, কিন্তু এরই মধ্যে তিনি নিউইয়র্কবাসীর দৃষ্টি কেড়েছেন সাহসী বক্তব্য, সমাজকল্যাণমুখী কর্মসূচি এবং ভিন্নধারার রাজনৈতিক দর্শন দিয়ে। অনেকেই বলছেন, নিউইয়র্কের পরবর্তী মেয়র হতে পারেন এই মুসলিম তরুণ। মামদানির পরিচয় জোহারান মামদানি একজন মুসলিম এবং ভারতীয়-উগান্ডীয় বংশোদ্ভূত। তার মা বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার, আর বাবা মোহাম্মদ মামদানি একজন নামকরা শিক্ষাবিদ। মামদানি শৈশবেই উগান্ডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং নিউইয়র্কেই বড় হন। তিনি বর্তমানে অ্যাস্টোরিয়াতে বসবাস করেন এবং পেশাগতভাবে একজন হাউজিং কাউন্সেলর থেকে রাজনীতিবিদ হয়েছেন। রাজনীতিতে প্রবেশ ২০২০ সালে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টদের সমর্থনে কুইন্স জেলার ৩৬ নম্বর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। তিনি নিজেকে "জনগণের প্রতিনিধি" হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি গৃহহীন, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর। তার মূল রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলোর মধ্যে রয়েছে: ভাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ ফ্রি পাবলিক বাস সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও শিশু পরিচর্যার সুযোগ মুসলিম সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী জোহারান মামদানি এখন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদের জন্য বিবেচিত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। প্রথাগত রাজনীতিবিদদের চেয়ে আলাদা হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম ও অভিবাসীদের মধ্যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হন, তবে এটি নিউইয়র্কের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হবে। মুসলিম পরিচয় এবং নেতৃত্ব একজন গর্বিত মুসলিম হিসেবে মামদানি কখনও নিজের ধর্মীয় পরিচয় লুকাননি। বরং তিনি ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে সমাজসেবা ও ন্যায়ের কথা বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। তিনি ‘Students for Justice in Palestine’ নামক সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, যা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও ন্যায়ের জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। উপসংহার জোহারান মামদানি শুধু একজন মুসলিম রাজনীতিবিদ নন, তিনি বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। একদিকে তার তরুণ নেতৃত্ব, অন্যদিকে তার সামাজিক দায়বদ্ধতা নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে নতুন দিশা দিতে পারে। নিউইয়র্কবাসীর আশাবাদ—এই তরুণ যদি মেয়র হন, তবে নগরবাসীর প্রকৃত সমস্যাগুলোর সমাধানে আমরা এক নতুন ইতিহাস দেখতে পারি।
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবাখাতে যুগান্তকারী সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন উপদ্রুত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ‘পাখি–ফ্লু’র প্রথম প্রাদুর্ভাব। একদিকে প্রতিরোধমূলক আইন নিয়ে চলেছে বড় আলোচনা, অন্যদিকে জীবাণুমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এখন জোরদার চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের বড় ধাপ স্বাস্থ্য ক্ষেত্র সংস্কার কমিশন একটি ঐতিহাসিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেছে, যেখানে প্রস্তাব রাখা হয়েছে: প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ‘সবার জন্য বিনামূল্যে’ নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক অধিকার ঘোষণার দাবি । স্বতন্ত্র ও স্থায়ী ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনের পরামর্শ, যা জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির পরামর্শদাতা ও মান–নিয়ন্ত্রক সংস্থা হবে । তবে, বাজেট বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের স্পষ্ট পথিকা এখনও তৈরি হয়নি—স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় যৌথ কমিটি জরুরি । এ ছাড়াও, কমিশন ১৫% জাতীয় বাজেট স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ, আর রোগ–নিয়ন্ত্রণ ও ঔষধ ও মানবশক্তি বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে । পাখি–ফ্লু: দেশে ৭ বছর পর প্রথম আঘাত জেসোর জেলার একটি পোল্ট্রি খামারে ‘হাইলি প্যাথোজেনিক অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা’ (HPAI) শনাক্ত হয়েছে — ৩,৯৭৮টি মুরগির মধ্যে ১,৯০০টি মারা যায়, বাকি বাদী করা হয়েছে । এটি পড়ে আদালতকারি ভ্যাকসিনেশন, খামার পর্যবেক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়েছে। পরিবেশগত এবং আর্থ–সামাজিক হুমকি দূষণজনিত রোগ: ঢাকা শহরের বায়ুমণ্ডল সাম্প্রতিক হারে “হাজার্ডাস” পর্যায়ে পৌঁছয়, যা সাধারণ মানুষ ও হাঁপানির রোগীদের জন্য বিপজ্জনক—অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আইন–সচেতনার জন্য আবেদন জানিয়েছেন । চিকিৎসা ব্যবস্থার ঝুঁকি: উঁচু রক্তচাপ ও NCD–এর কারণে মৃত্যুর হার বেড়ে ৭১%, কিন্তু তিনি শুধু ৪.২% বাজেট বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ । কী বলা হলো এক নজরে? বিষয় অবস্থা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে ঘোষণা, আইনকে সাংবিধানিক অধিকার বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন গঠন প্রস্তাব বাজেট বরাদ্দ ১৫% দাবি প্রতিষ্ঠিত রোডম্যাপ এখনও অপেক্ষায় পাখি–ফ্লু প্রথম প্রাদুর্ভাব, ১,৯০০ মুরগি মারা গিয়েছে পরিবেশমূলক স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ দূষণ ভয়াবহ, NCD–সংক্রান্ত মৃত্যুহার ও উদ্বেগ বিশ্লেষণ স্বাস্থ্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য সবার নাগাল নিশ্চিত না হলে বড় পরিকল্পনার সফলতা অনিশ্চিত। ‘স্বাস্থ্য–কমিশন’ গঠন ও বাজেটে বড় পরিবর্তন আনা গেলে জাতীয় স্বাস্থ্য মানে দীর্ঘমেয়াদি লাভ হবে। তবে অপরদিকে, নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ও দূষণের মতো অপ্রত্যাশিত হুমকি মোকাবিলার জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একাধিক স্তরে প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ না দিলে জনগণের নিরাপদ–সেবা পাওয়া ঝুঁকির সম্মুখীন। বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তনের মুখে, তবে বাস্তবায়ন ও সময়ানুবর্তী পন্থা নিশ্চিত না হলে সব প্রচেষ্টা বৃথা। সরকারের উচিত দ্রুত রোডম্যাপ প্রকাশ করে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা।
বিশ্ব এখন আবার এক অজানা ভাইরাসের আতঙ্কে। কোভিড-১৯ এর দুঃসহ অভিজ্ঞতা এখনও সবার মনে তাজা। সেই রকমই আরেকটি ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে। যদিও এর নাম, প্রকৃতি ও বিস্তার এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি, তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন এটি সংক্রমণযোগ্য এবং মানুষের জীবনধারায় নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে। এই নতুন ভাইরাস মূলত সর্দি, জ্বর, গলা ব্যথা ও ক্লান্তি দিয়ে শুরু হয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বমি, কিংবা দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে না পারলেও এ নিয়ে চলছে গবেষণা। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—আবার কি লকডাউন আসছে? আবার কি স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে? মাস্ক, স্যানিটাইজার, দূরত্ব—সব আবার শুরু? এমন আতঙ্কের সময় সবচেয়ে প্রয়োজন সচেতনতা ও প্রস্তুতি। আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের উচিত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তোলা। প্রথমেই আসি ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, বিশেষ করে বাইরে থেকে এসে, খাবার খাওয়ার আগে ও পরে। অ্যালকোহল-ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারও উপকারী। চোখ, মুখ ও নাক বারবার স্পর্শ না করাই ভালো, কারণ এখান থেকেই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে। মাস্ক পরার অভ্যাস আবার গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে জনসমাগমপূর্ণ জায়গায় গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। এতে শুধু নিজেকে নয়, অন্যদেরও রক্ষা করা যায়। মনে রাখা দরকার, ভাইরাস বাহক ব্যক্তি নিজে অসুস্থ না হলেও অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম—এই সবগুলোই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ঘরে যদি ছোট বাচ্চা বা বৃদ্ধ কেউ থাকে, তাদের আরও বেশি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, কারণ এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না নেওয়াই ভালো। অনেক সময় গুজব বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্য মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুসরণ করাই সর্বোত্তম। এছাড়া অফিস বা স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষেরও উচিত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে কঠোরতা আরোপ করা। যদি ভাইরাসটির প্রকোপ বাড়ে, তবে সরকার কর্তৃক নির্দেশিত নির্দেশিকা মানা জরুরি হবে। সবাই মিলে যদি সচেতনভাবে এগিয়ে আসে, তবে ভয় নয়, বরং দায়িত্ব নিয়েই এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। সবশেষে বলা যায়—নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক সত্য, কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও ভয়াবহ হতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মানা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন—এই তিনটি পথই আমাদের রক্ষা করতে পারে। আপনার সচেতনতা মানেই আপনার পরিবারের নিরাপত্তা। আমরা যদি সবাই সচেতন থাকি, তবে একসঙ্গে এই সংকটও অতিক্রম করা সম্ভব।