নির্বাচনী পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে বলে তারা আশাবাদী।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মনোনয়ন বাতিল সংক্রান্ত আপিল গ্রহণের জন্য স্থাপিত বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন বাছাইয়ের শেষ দিন রোববার (৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত ৩০০ সংসদীয় আসনের বিপরীতে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কার্যক্রম চলবে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিলে ৭টি নির্দেশনা মানতে হবে—
১. আপিল আবেদন কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে (নির্ধারিত ফরমেটে) দায়ের করতে হবে।
২. আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ সংবলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে।
৩. আপিল আবেদনের ১টি মূল কপিসহ সর্বমোট সাতটি কপি দাখিল করতে হবে।
৪. আপিল আবেদন ইসির আপিল গ্রহণ সংক্রান্ত কেন্দ্রে স্ব স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে।
৫. আপিল আবেদন ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে দায়ের করতে হবে।
৬. আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপির জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন দাখিল করতে হবে। ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
৭. আপিল দায়েরকারী অথবা আপিল দায়েরকারী পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
আপিল দায়ের করতে নির্বাচন ভবন চত্বরে দশটি অঞ্চলের জেলার জন্য ১০টি বুথ রয়েছে—
১নং বুথে খুলনা অঞ্চলের জেলা সমূহ: মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা।
২নং বুথে রাজশাহী অঞ্চলের জেলা সমূহ: জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা।
৩নং বুথে রংপুর অঞ্চলের জেলা সমূহ: পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা।
৪নং বুথে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেলা সমূহ: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান।
৫নং বুথে কুমিল্লা অঞ্চলের জেলা সমূহ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর।
৬নং বুথে সিলেট অঞ্চলের জেলা সমূহ: সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ।
৭নং বুথে ঢাকা অঞ্চলের জেলা সমূহ: টাংগাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ।
৮নং বুথে ময়মনসিংহ অঞ্চলের জেলা সমূহ: জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা।
৯নং বুথে বরিশাল অঞ্চলের জেলা সমূহ: বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর।
১০নং বুথে ফরিদপুর অঞ্চলের জেলা সমূহ: রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর।
আইন মন্ত্রণালয় সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট মো. আবুল হাসানের নিয়োগ বাতিল করেছে। সলিসিটর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তিনি উক্ত পদ থেকে অব্যাহতি পাবেন এবং আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগে ব্যক্তিগত কারণে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম ও আহমদ মুসাননা চৌধুরী পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিয়েছিলেন।
কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর হত্যার দীর্ঘ ১০ বছর পর মামলায় নতুন ঘূর্ণি এসেছে। সোমবার কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তিনজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, তনুর ব্যবহৃত কিছু কাপড় থেকে আগেই তিনজনের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু আগে ম্যাচিং হয়নি। আদালতের নির্দেশে এবার পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। তিনজনই সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন। তদন্তের অগ্রগতি পরবর্তী শুনানিতে রিপোর্ট করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ তনু কুমিল্লা সেনানিবাসে টিউশনি শেষে আর বাসায় ফেরেননি। পরদিন তার লাশ সেনানিবাসের কাছাকাছি একটি জঙ্গলে পাওয়া যায়। তার বাবা ইয়ার হোসেন মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২০ সালে মামলাটি পিবিআই সদর দপ্তরে হস্তান্তরিত হয় এবং বর্তমানে পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছেন। ইয়ার হোসেন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ের হত্যার বিচার চাইব। ১০ বছর ধরে বিচার না পাওয়ায় আমি ভীষণ কষ্টে আছি। এক মাসের মধ্যে না হলে আমি আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছি।”
রাজধানীর সচিবালয়ে কূটনৈতিক সৌজন্য বিনিময়ের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষাৎটি ছিল প্রোটোকলভিত্তিক সৌজন্য সাক্ষাৎ। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, এ ধরনের কূটনৈতিক সাক্ষাৎ সাধারণত পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও নীতিগত যোগাযোগ রক্ষার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।