গণ-অভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনকালীন সময়ে ১ হাজার ৫৬৯টি গুমের ঘটনা নিশ্চিত করেছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদের মধ্যে ২৫১ জন এখনও নিখোঁজ, যাদের মৃত বলে ধরা হচ্ছে। এছাড়া সময়সীমা অতিক্রমের পর আরও ৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। কমিশন নিশ্চিত করেছে, অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অন্তত ২৮৭টি মৃত্যু সরাসরি গুমের সঙ্গে সম্পর্কিত।
কমিশনের তথ্যমতে, ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগের মধ্যে ১ হাজার ৫৬৯টি বৈধ গুম হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। এর মধ্যে ১১৩টি অভিযোগ গুমের সংজ্ঞার বাইরে, যেমন স্বাভাবিক গ্রেপ্তার বা হেফাজতের সময় ২৪ ঘণ্টার কম হওয়া। কমিশন ধারণা করছে, প্রকৃত গুমের সংখ্যা আনুমানিক ৪ হাজার থেকে ৬ হাজারের মধ্যে হতে পারে।

গুমের ঘটনায় র্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার নাম উঠে এসেছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অভিযোগের প্রায় এক-চতুর্থাংশে র্যাবের সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ রয়েছে।
গুম হওয়া ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৯৬.৭ শতাংশ (৯৪৮ জন) বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ৪৭৬ জন (৫০.২%), ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৩৬ জন (২৪.৯%), বিএনপির ১৪২ জন (১৫%), জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ৪৬ জন (৪.৯%) ও যুবদল ১৭ জন (১.৮%)। কমিশন মন্তব্য করেছে, গুমের ঘটনা রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ছিল না এবং বিরোধী দলের সদস্যদের ওপর লক্ষ্যবস্তু করে পরিচালিত হয়েছে।
লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১,৫৪৬ জনের মধ্যে পুরুষ ১,৫২৩ জন (৯৮.৫%), নারী ২৩ জন (১.৫%)। নারীদের সংখ্যা কম হলেও সামাজিক কলঙ্ক ও পরিবারিক চাপের কারণে অনেক অভিযোগ অজানা থেকে গেছে।
বছরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০০৯ সালে ১০টি গুম, ২০১০ সালে ৩৪, ২০১১ সালে ৪৭, ২০১২ সালে ৬১, ২০১৩ সালে ১২৮, ২০১৪ সালে ৯৫, ২০১৫ সালে ১৪১, ২০১৬ সালে ২১৫, ২০১৭ সালে ১৯৪, ২০১৮ সালে ১৯২, ২০১৯ সালে ১১৮, ২০২০ সালে ৫১, ২০২১ সালে ৯৫, ২০২২ সালে ১১০, ২০২৩ সালে ৬৫ ও ২০২৪ সালে ৪৭টি। ২০১২ সালের পর গুমের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে ২০১৮ সালের মধ্যে উচ্চমাত্রায় পৌঁছায়। নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে এ ঘটনার সম্পর্ক স্পষ্ট।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কমিশন সতর্ক করেছে, সরকারি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকৃত ঘটনার চিত্র হতে পারে আংশিক। ভুক্তভোগী ও নিখোঁজদের অধিকাংশই ছাত্র ও যুব সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন, যা প্রমাণ করে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় তরুণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে ডিবি কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলায় তিনি পলাতক আসামি হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। উক্ত মামলার অভিযোগে সহিংসতার প্রেক্ষাপটে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ একাধিক সুনির্দিষ্ট মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিহত হন, যেখানে সাবেক এই স্পিকারের নির্দেশের বিষয়টি আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল প্রথমবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ধারাবাহিকভাবে একাধিক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেন। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মামলায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, আসন্ন পহেলা বৈশাখে ভারতের দিকে ইলিশ রফতানি করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। মন্ত্রী আরও জানান, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। দেশের ২০টি জেলায় এই কর্মসূচি পালিত হবে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে চাঁদপুরে। তিনি জেলেদের প্রতি আহ্বান জানান, এই সময় জাটকা আহরণ, বিক্রি ও মজুত থেকে বিরত থাকবেন। সাগর থেকে বাজার পর্যন্ত কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে বাজারে সরবরাহ বাড়ে ও দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমে প্রয়োজনে জেলেদের খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা বাড়ানো হবে এবং সহায়তার বিতরণে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া কোনো চুক্তি বা অর্থনৈতিক আলোচনায় তার অংশগ্রহণ হয়নি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এসব বিষয় তার দায়িত্বের আওতায় ছিল না। তিনি বলেন, “ইকোনমিক, ব্যাংকিং ও এনবিআর ইস্যুতে আমাকে ডাকা হয়নি। এসব আলোচনা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং কয়েকজন উপদেষ্টার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আইন সংক্রান্ত ও রাজনৈতিক সংস্কার বিষয়ক আলোচনায় আমাকেই ডাকা হতো।” আলোচনায় ‘কিচেন কেবিনেট’ প্রসঙ্গ তুলে অধ্যাপক আসিফ বলেন, এটি যে কোনো সরকারের জন্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তিনি জানিয়েছেন, সব সদস্যকে প্রত্যেক আলোচনায় থাকা প্রয়োজন হয় না; যাঁদের প্রয়োজনীয় গুরুত্ব বেশি, শুধুমাত্র তাঁদেরই অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হতো। সাবেক এই উপদেষ্টা আরও বলেন, “ইউনূস সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় কিছু উপদেষ্টা ছাড়াও, লেবার আইন সম্পর্কিত আলোচনায় আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। পরে ইলেকশন আইন নিয়ে আলোচনায় আমি বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলাম।” এই বক্তব্যে তিনি পরিষ্কার করেছেন, বিতর্কিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি বিষয়ে তার ভূমিকা ছিল সীমিত এবং নির্দিষ্ট দায়িত্বের বাইরে।