বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী সারোয়ার প্যাদা (৫৫) এবং তার ভাই বাচ্চু প্যাদা (৪৫) আটক হয়েছেন। অভিযানের সময় তাদের বাসা থেকে ছয়টি ককটেল (হাতবোমা) এবং চারটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশনের ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের নেতৃত্বে ৬ পদাতিক ব্রিগেড এই অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়া অভিযানে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া ককটেল ও অস্ত্রগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাশকতামূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল।
সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা সব সময় সতর্ক অবস্থানে থেকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অভিযান নির্বাচনের পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
বরিশাল নগরীতে ভূয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক দালালকে রোগীদের প্রতারণার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সদর রোড থেকে আটক করা মাসুম হাওলাদার নামের ওই দালালকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে সাজা দেন। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে বিভিন্ন প্রবেশদ্বার—নথুল্লাবাদ, লঞ্চঘাট ও রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড—থেকে অসুস্থ মানুষদের ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে ধরে এনে ভূয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের হাতে তুলে দেওয়ার একটি চক্র সক্রিয় ছিল। এতে রিক্সা ও অটো চালকরা দালালদের সঙ্গে অংশীদার হয়ে মোটা কমিশন অর্জন করত। এ চক্রের মাধ্যমে গ্রামীণ রোগীদের কাছ থেকে ভূয়া টেস্টের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো। বৃহস্পতিবার সদর রোডস্থ বিবির পুকুরপারে সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিকের দালাল মাসুম হাওলাদারকে স্থানীয়রা আটক করে। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানার এসআই রুহুল আমীন তাকে থানায় নিয়ে যান। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সামারী ট্রায়ালের মাধ্যমে মামলার বিচার শেষে মাসুম হাওলাদারকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় আরও এক ব্যক্তিকে স্বাক্ষী হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে, যিনি নিজেও অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সাইবার সুরক্ষা আইনে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে বড়ভিটা বাজার সংলগ্ন একটি ক্লাবঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো সাজু খান (৩৫), আসাদুজ্জামান (৪০), তানভীর আহমেদ মিজান (৩০), তানজিদ হোসেন (২৪), তৌহিদুল ইসলাম (৩০) ও আলাল ইসলাম (৩৫)। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই কাজী রিপন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, তারা ডিজিটাল ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভিসা, নকল পাসপোর্ট, ভুয়া চাকরির নিয়োগপত্র ও ব্যাংক লোনের প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ, রকেট ও নগদ অ্যাকাউন্টে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। পাশাপাশি তারা অনলাইন ক্যাসিনোতে জড়িত ছিল এবং মাদক সেবন করছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা এসব কার্যক্রমে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুছ জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, যা পরিকল্পিত অপরাধের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের একটি ধানক্ষেত থেকে সোহেল রানা (২৫) নামের ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি স্থানীয় সড়াতৈল গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যানুসারে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘ঈদ বকশিস’ দেওয়ার কথা বলে সোহেল রানাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা ধানক্ষেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে অবহিত করেন। শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মরদেহে গলা কাটা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা নির্দেশ করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।