কুড়িগ্রামের জেলা শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় ধ্বংস হওয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বুধবার সকালে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহমেদ বিষয়টি নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন এবং ব্যানারের ভিডিও শেয়ার করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচ থেকে সাতজন তরুণ ব্যানার ও পতাকা উত্তোলন করার সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন। পরে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আবদুল আজিজ সেখানে উপস্থিত হয়ে ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলে এবং জাতীয় পতাকা নামিয়ে নেন। আবদুল আজিজ বলেন, “যারা এই সুযোগ দিয়েছেন, তারা খুব দ্রুত এর ফলাফল টের পাবেন।”
দুপুরে আন্দোলনের নেতাকর্মীরা পুনরায় উপস্থিত হয়ে ধ্বংস হওয়া কার্যালয়ের চারপাশের টিনের বেড়া ভেঙে দেন। এর আগে গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি একই আন্দোলনের নেতাকর্মী ও বিক্ষুব্ধ গ্রুপ এক্সকাভেটর ব্যবহার করে কার্যালয়টি ধ্বংস করে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে জানান, ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় তিনি এখনও অবগত নন।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া আউলিয়াঘাট এলাকায় রবিবার (৫ মার্চ) দুপুরে করতোয়া নদীতে গোসল করতে নেমে এক যুবক তলিয়ে যান। দীর্ঘ ৫ ঘন্টা চেষ্টা ও উদ্ধার অভিযান শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নদী থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবক বদেশ্বরী গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে সজীব। স্থানীয় সূত্র জানায়, সজীবসহ চারজন যুবক দুপুরে নদীতে গোসলের উদ্দেশ্যে নেমে। সাঁতার না জানা সজীব গভীর পানিতে তলিয়ে গেলে অপরদের মধ্যে দুইজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। প্রাথমিক উদ্ধার কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা ৪ ঘন্টা তল্লাশি চালালেও সফল হননি। পরে রংপুর থেকে আসা ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎপরতা চালিয়ে নদী তলদেশ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, নদীতে বালু উত্তোলনের কারণে খরার মৌসুমেও ৩০-৪০ ফুট গভীর চোরার বালি গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। এ ধরনের গর্তের কারণে নদীতে গোসলের সময় বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা সজীবের মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরে ৩ জন ও পঞ্চগড়ে ৪ জন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী জানান, গত ৩০ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৯৩ জন হামের উপসর্গে শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ৩০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় সংঘটিত প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শনিবার এ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুযায়ী, নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা এবং আহত ও চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হবে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীনদের খোঁজখবর নেন এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন ও দায় নিরূপণে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা জেলা প্রশাসনকেও পৃথক তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় সরকার আইনি কাঠামোর আওতায় কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে এবং অবহেলার কারণে কোনো প্রাণহানি সহ্য করা হবে না।