অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বহুসংস্কৃতির অংশগ্রহণের আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে সিডনিতে আয়োজিত ‘ষষ্ঠ বার্ষিক লিবারেল পার্টি ইফতার ডিনার’-এ।
লিবারাল পার্টি অব অস্ট্রেলিয়া আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় Le Montage Event Centre-এ। এতে দলটির ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ধর্মীয় আচার, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ও রাজনৈতিক সৌজন্যে অনুষ্ঠানটি বহুজাতিক অস্ট্রেলীয় সমাজের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।

উপল আমিনের উপস্থাপনায় এবং সায়ান জামানের কুরআন তিলাওয়াত ও আজানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির অতিথিদের অংশগ্রহণে ইফতারটি পরিণত হয় আন্তঃসম্প্রদায়িক সংলাপের মঞ্চে।
লিবারেল পার্টির লাকেম্বা শাখা ও ব্যাংকসটাউন এসইসির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহে জামান টিটুর উদ্যোগে আয়োজিত এ ইফতার ২০২১ সালে সীমিত পরিসরে শুরু হলেও বর্তমানে দলটির ভেতরে মুসলিম সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

এ বছর অনুষ্ঠানে এমপি, এমএলসি, সিনেটর, মেয়র ও কাউন্সিলরদের পাশাপাশি পেশাজীবী, চিকিৎসক, কমিউনিটি প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, এ আয়োজন শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং অস্ট্রেলিয়ার সমাজ ও রাজনীতিতে মুসলিম ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জায়নবাদী মতাদর্শকে মুসলিম বিশ্বে অস্থিতিশীলতার উৎস এবং “মানবতার জন্য হুমকি” হিসেবে অভিহিত করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত “চাপিয়ে দেওয়া” হয়েছে এবং এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি পাকিস্তানের নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ইসলামি বিশ্বের ওপর সংঘটিত বিভিন্ন সংঘাতের পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জায়নবাদী রাষ্ট্রনীতির ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে বহিরাগত হুমকির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে প্রতিরোধক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, করাচি, স্কার্দু ও ইসলামাবাদে সংঘর্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপের ঘটনায় একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেট সংলগ্ন বিক্ষোভ চলাকালে গুলিবর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় কার গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সুস্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সার্বিক পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে উত্তর ইসরায়েলের রামাত দাভিদ বিমানঘাঁটিতে একাধিক ড্রোন ব্যবহার করে রাডার ও নিয়ন্ত্রণকক্ষ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। সংগঠনটি এই হামলাকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার জবাব হিসেবে উপস্থাপন করেছে। একই সময়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে ‘বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলায় ২০টি ড্রোন ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যার ফলে প্রধান কমান্ড ভবন এবং জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লেগেছে। বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের উপর চালানো সাম্প্রতিক হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সোমবার জেরুজালেমের পশ্চিমে বেইম শেমেস শহরে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেছেন। এই সময় তিনি বলেন, ‘অপারেশন রোরিং লায়নের তৃতীয় দিন শুরু হয়েছে, যা ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে পরিচালনা করছে। এর লক্ষ্য ইসরায়েল ও বিশ্বের নিরাপত্তার ওপর হুমকি প্রতিহত করা।’ নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘ইরানের স্বৈরশাসকরা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছেন। আমরা তাদের প্রতিহত করি যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকে।’ তিনি ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে উল্লেখ করেন, ‘তারা শুধু ইসরায়েল বা আমেরিকাকেই নয়, ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।’