ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার গড়ইয়া গ্রামে দুই দিনব্যাপী শ্রী শ্রী গোপালচাঁদ মতুয়া আশ্রমের ২৮তম বার্ষিক হরিনাম মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে ১০ জন গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অধ্যাপক তুষার কান্তি বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সম্মাননা পান: ডাক্তার তমাল হালদার, সাগর কুমার টিটু, ইঞ্জিনিয়ার মালিক নাল বিশ্বাস, লিটন চন্দ্র হালদার, সাংবাদিক সুখেন্দু এদবর, গোপাল চন্দ্র মন্ডল, ইঞ্জিনিয়ার দিলীপ কুমার হালদার, সমীর হালদার, ইঞ্জিনিয়ার সমিরন হালদার এবং শ্রীমতি কাকলি রানী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ড. সুভাষচন্দ্র সুতার, ডাক্তার দিলীপ চন্দ্র হাওলাদার, শংকর লাল মৃধা, ভবানী শঙ্কর বল, আশীষ কুমার মৃধা এবং প্রদীপ কুমার মল্লিক।
প্রথম দিন সকাল থেকে গোপালচাঁদ শিক্ষার্থী সংঘ ও মাতৃ সংঘের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুরো দুই দিনের মহাযজ্ঞ ও মহোৎসবে গড়ইয়া ও রাজাপুরের শত শত ভক্তবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা এই ধরনের আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ও পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সমকালের স্থানীয় সংবাদদাতা সামিউল আযম মনিরের ওপর হামলার ঘটনায় উপজেলা যুবদলের চার নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন— সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙুর, যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজ আল আসাদ, বাবলুর রহমান ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য আব্দুর রহিম। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সাতক্ষীরা ও শ্যামনগরে পৃথক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট মোড়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন হয়। এতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য দেন। একই সময় শ্যামনগর প্রেসক্লাবের আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনবিষয়ক সংবাদ প্রকাশের জেরে ২ মার্চ প্রেসক্লাবে ঢুকে সামিউল আযম মনিরের ওপর হামলা চালানো হয়। তারা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে আহত সাংবাদিক সামিউল আযম মনির সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালেদুর রহমান জানান, মামলায় অভিযুক্ত যুবদল কর্মী বাবলুর রহমান ও আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে প্রধান অতিথি করার ঘটনা সরকারি ও জনমতের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে রবিবার সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক আদেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র দে ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুল ইসলামকে বদলি করেছেন। বাহুবলে ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সভায় এমপি ড. রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নিলেও অভিযোগ উঠেছে, এতে কর্মঘণ্টায় সাধারণ নাগরিকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারি প্রোটোকল অনুসারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হতে পারেন; কোনো বেসরকারি ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সভা আয়োজন প্রশাসনিক বিধি ও নীতির বাইরে হলে তা বিতর্কের জন্ম দেয়। স্থানীয় প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সরকারি স্থাপনা ও কর্মকর্তা ব্যবহার করে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে সভা আয়োজন হলে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও জনসেবা ক্ষুণ্ণ হয়।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার পৌর এলাকার মুন্দাইল গ্রামে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তির লিঙ্গ কর্তনের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্দাইল গ্রামের আজমাদ হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলাম একই গ্রামের এক গৃহবধূর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই নারীকে জড়িয়ে ধরে অশালীন আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় আত্মরক্ষার্থে নারীটি ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করলে তার পুরুষাঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়। ভুক্তভোগীর স্বামী মুকুল হোসেন দাবি করেন, নজরুল ইসলাম পূর্বেও তার স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী ঘরে একা ছিলেন। অভিযুক্ত পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলে আত্মরক্ষার্থে তিনি আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় নজরুল ইসলামকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে অভিযোগ অস্বীকার করেন। ক্ষেতলাল থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।