মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন নিয়মাবলি জারি করেছে, যেখানে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ত্বরান্বিত করার জন্য এই সময়সীমা সর্বজনীনভাবে কার্যকর হবে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আসার পথে দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত কাজের (যেমন সেমিনার, প্রশিক্ষণ, ব্যাংক বা হাসপাতাল সফর) কারণে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে পারেন না। তবে এই বিষয়টি জনসেবায় বিঘ্ন না ঘটানোর জন্য এখন থেকে অফিসে নির্ধারিত সময় উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

নিয়মটি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহে কার্যকর হবে। ব্যতিক্রম স্বরূপ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও অনুষদ সদস্য, রোস্টার ডিউটি করা হাসপাতাল ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী, জরুরি গ্রাহকসেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ভিআইপি প্রটোকল, জরুরি দুর্ঘটনা মোকাবিলা, উন্নয়ন সহযোগী বা কূটনৈতিক মিশনের গুরুত্বপূর্ণ সভা, অনুমোদিত সরকারি সফর ছাড়া অফিস ত্যাগ করা যাবে না। দাপ্তরিক কাজে ব্যতীত অফিস ত্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এই পদক্ষেপ সরকারি কাজের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে এবং অফিসে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গ্রহণ করা হয়েছে।
দেশের ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) রোববার (১৯ এপ্রিল) জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, ১২ কেজি ধারণক্ষমতার এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা, যা পূর্বনির্ধারিত ১ হাজার ৭২৮ টাকার তুলনায় ২১২ টাকা বেশি। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশোধিত মূল্য রোববার সন্ধ্যা থেকে সারাদেশে কার্যকর হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানকে তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত ২ এপ্রিল মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমান পুনর্নির্ধারণে একধাপেই উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল অভিমত ব্যক্ত করেছে।
রাজধানীর গুলশানে গভীর রাতেও অব্যাহত ছিল রাজনৈতিক তৎপরতা, যেখানে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার কার্যক্রম পরিচালনা করেন তারেক রহমান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া রাত ২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত চলমান ছিল বলে নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মনোনয়ন বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সাক্ষাৎকার পর্বে দেশের বিভিন্ন বিভাগের প্রার্থীরা অংশ নেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিপুলসংখ্যক মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা পড়েছে, যা প্রক্রিয়াটিকে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিল, যাচাই-বাছাই ও ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়সূচি ইতোমধ্যে কার্যকর রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মনোনয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।
জ্বালানি ঘাটতিজনিত উৎপাদন বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম মহানগরে বিদ্যুৎ সরবরাহে মারাত্মক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে ব্যাপক লোডশেডিং জনজীবনে গুরুতর বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও সিস্টেম কন্ট্রোল (স্কাডা)-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য থাকলেও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দেওয়ার কারণে স্থানীয়ভাবে ঘাটতি তৈরি হয়ে বাধ্যতামূলক লোডশেডিং কার্যকর করা হয়। একই দিনে দুপুরে সরবরাহ ঘাটতি আরও প্রকট ছিল, যা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থাকে নির্দেশ করে। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১০টি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গ্যাস সরবরাহ হ্রাস এবং জ্বালানি সংকটকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে নগরীর বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত সীমিত সংখ্যক কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা সিস্টেমকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এর ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন গড়ে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা দেখা দিচ্ছে, যা পানি সরবরাহসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নয়ন নির্ভর করবে সীমিত উৎপাদন ব্যবস্থাপনার ওপর; একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।