ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বুধবার (০৪ মার্চ) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরানে খামেনির মৃত্যুর পর যে ব্যক্তিকেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হবে, তাকে হত্যা করা হবে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে উল্লেখ করেন, যেকোনো নেতা যদি ইসরায়েলকে ধ্বংস, যুক্তরাষ্ট্র বা আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এবং ইরানি জনগণকে দমন-নিপীড়নের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়, তার নাম এবং অবস্থান যেখানেই হোক না কেন, তাকে নিশানা বানানো হবে।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে উত্তেজনা তীব্রতর হয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘোষণা গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা আজ সন্ধ্যায় তেহরানে হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। খবর জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও টাইমস অব ইসরায়েল। টেলিভিশনের বরাতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রদেশ থেকে প্রচুর মানুষ জানাজায় অংশ নিতে আসার কারণে যথাযথ পরিকাঠামো ও আয়োজন নিশ্চিত করতে আরও সময় প্রয়োজন। তাই অনুষ্ঠানটি পরবর্তীতে উপযুক্ত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। খামেনির মৃত্যু গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ঘটে। তার মৃত্যুতে রাজধানী তেহরানসহ দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে। নিরাপত্তা ও লজিস্টিক কারণে জানাজা স্থগিত করা হয়েছে। নতুন সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বুধবার (০৪ মার্চ) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরানে খামেনির মৃত্যুর পর যে ব্যক্তিকেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হবে, তাকে হত্যা করা হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে উল্লেখ করেন, যেকোনো নেতা যদি ইসরায়েলকে ধ্বংস, যুক্তরাষ্ট্র বা আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এবং ইরানি জনগণকে দমন-নিপীড়নের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়, তার নাম এবং অবস্থান যেখানেই হোক না কেন, তাকে নিশানা বানানো হবে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে উত্তেজনা তীব্রতর হয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘোষণা গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান–ইসরাইল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটনে নীতিগত ভিন্নমতের ইঙ্গিত মিলেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বক্তব্যে ইসরাইলের সূচিত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত সম্পৃক্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করলেও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে এর দায়ভার নিজের সিদ্ধান্তের ওপর নেন এবং মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি একমত হননি। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে আগাম সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ইরানের বিমান, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক হাজার সাতশোর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বর্তমান পর্যায়ে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ “অতিক্রান্ত” হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর ইরান আলোচনার আগ্রহ দেখালেও তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে এবং প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তার পুত্র মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ও পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ এখনো মেলেনি। উল্লেখ্য, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে সমন্বিত সামরিক অভিযান শুরু করে। তেহরানে হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকজন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায় এবং পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত আঞ্চলিক বিস্তারের ঝুঁকিতে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেও এখন পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।