ইরানের রাজনৈতিক উচ্চপদস্থ নেতা মোহাম্মদ মোখবার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা চালাতে আগ্রহী নয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ওয়াশিংটনের প্রতি আমাদের কোনো আস্থা নেই, আর তাদের সঙ্গে আলোচনা চালানোর কোনো ভিত্তি নেই।”
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনরত মোখবার আরও জানান, তেহরান প্রয়োজনে ‘যতদিন দরকার’ চলমান সংঘাতের মধ্যেই অবস্থান বজায় রাখতে প্রস্তুত। তাঁর মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরান কোনো আংশিক সমঝোতা বা আলোচনার পথ গ্রহণ করবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মোখবারের এই অবস্থান মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রতিক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার দিকে ইঙ্গিত করছে এবং ইরানের কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও সামরিক প্রস্তুতি আরও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে নির্দেশিত হতে পারে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংসের দাবি জানালেও, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনও উদ্বেগজনক মাত্রায় রয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডিফ্রিন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা ফ্রন্টলাইনে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে কাজ করা কয়েক ডজন লঞ্চার ধ্বংস করেছি। হামলা অব্যাহত থাকবে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কমানোর চেষ্টা করা হবে। তবে ইরানের উল্লেখযোগ্য নিক্ষেপ ক্ষমতা এখনও অক্ষত।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এত শক্তিশালী যে তা অতিক্রম করা প্রায় অসম্ভব।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। এছাড়া অভিযানে ২০০টি যুদ্ধবিমান, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং কয়েকটি বোমারু বিমান অংশগ্রহণ করছে। কুপারের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি। তিনি বলেন, লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে যেসব থেকে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। ইরানের নৌবাহিনীর কার্যক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে এবং তাদের প্রধান সাবমেরিন ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ১৭টি ইরানি জাহাজ ধ্বংসের দাবি করা হয়েছে। সমুদ্র, আকাশ ও সাইবার স্পেস—তিনটি ক্ষেত্রেই অব্যাহত অভিযান চলছে। সেন্টকম প্রধানের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানকে কার্যকরভাবে প্রতিহত করা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষা করা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স বুধবার (৪ মার্চ) একটি অবগত সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনটি সম্ভাব্যভাবে ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত নয় যে দূতাবাস চত্বরে অবস্থিত সিআইএ-এর স্টেশনটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তু ছিল কিনা। এ বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।