রাজধানীর মিরপুরে একটি বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা (২২)-এর জানাজা বুধবার (১১ মার্চ) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার মৃত্যুতে নিজ এলাকা নিচু কলোনীতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সকাল সাড়ে ১০টায় সৈয়দপুর উপজেলার নিচুকলোনী ঈদগাহ মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহরের হাতিখানা কবরস্থানে তার নানির কবরের পাশে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়-স্বজন ও বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন।
অনন্যা ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলার নিচু কলোনী বিমানবন্দর পূর্বপাড়া এলাকার অটোরিকশা চালক আব্দুল হান্নানের বড় মেয়ে। দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পরিবারের প্রধান ভরসা। ছোট বোন নুরে জান্নাত সুবর্ণা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অনন্যা সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে স্থানীয় সানফ্লাওয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনার সময়ই তিনি বিমান বাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদানের সুযোগ পান। প্রায় চার বছর আগে বাহিনীতে যোগ দিয়ে সিলেটে প্রথম কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
পরিবার জানায়, অটোরিকশা চালক বাবার সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিছুদিন আগে বাবার অটোরিকশা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে ওঠেন অনন্যা।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাকাটা করতে সোমবার মিরপুর-২ এলাকার একটি শপিং মলে গিয়েছিলেন তিনি। দুপুরে ভবনটির তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তিনি ভেতরে আটকা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতেই তার মৃত্যু হয়।
অনন্যার ফুফু ফরিদা পারভীন বুলবুলি বলেন, “আমি তাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতাম। চাকরিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিদায় দিতে কষ্ট হয়েছিল, কিন্তু এভাবে হারাবো কখনো ভাবিনি।”
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা জানান, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায় সে বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে অনন্যার অকাল মৃত্যুতে সৈয়দপুরের নিচু কলোনীসহ আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সুবর্ণচর উপজেলা-এ পুকুরে গোসল করতে নেমে রোকসানা আক্তার (৯) ও আফসানা আক্তার (৫) নামে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা-এর গাংছিল গ্রামের কৃষক মহি উদ্দিনের মেয়ে এবং স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সঙ্গে নানার বাড়িতে অবস্থানকালে তারা বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নামে। এ সময় ছোট বোন ডুবে গেলে বড় বোন তাকে বাঁচাতে গিয়ে দুজনই পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিলে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। চরজব্বর থানা পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকার একটি বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিহত শিক্ষার্থীর নাম মুনিরা মাহজাবিন মিমো (২০১৯-২০ সেশন)। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে অর্থ লেনদেন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য পাওয়া গেছে। নোটের বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে তদন্তের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও ওই শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তবে তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রাপ্ত আলামত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
নীলফামারী জেলা-এ টানা বৃষ্টিপাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত থেকে অব্যাহত বৃষ্টিতে খাল-বিল ও নিম্নাঞ্চল পানিতে ভরে গিয়ে কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, ধানক্ষেত ও সবজি ক্ষেতসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। বিশেষ করে নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় বোরো ধান ও মৌসুমি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, টানা বৃষ্টিতে কাঁচা সড়ক কাদায় পরিণত হওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক এলাকায় খাল-বিল উপচে বসতবাড়ি ও গ্রামীণ সড়কে পানি ঢুকেছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডালিয়া পয়েন্টে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলে গভীর মেঘমালার প্রভাবে আগামী ৯৬ ঘণ্টায় রংপুর অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা জলাবদ্ধতা আরও বাড়াতে পারে। এদিকে বিকেল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।