নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে টানা দুই দিন ধরে অনশনে বসেছেন এক তরুণী। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তিনি এই কর্মসূচি শুরু করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের ঢেলাপীর পুলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোছা. সাকিলা খাতুন (১৮) একই ইউনিয়নের কাছারি বোসনিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ পারভেজ ইসলাম (২৫)-এর বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি পারভেজের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন এবং বুধবার (১১ মার্চ) পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে পারভেজ ইসলামের কাছে প্রাইভেট পড়ার সময় তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। পরে সাকিলা এসএসসি পাস করলে পারভেজের পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারে তাকে শিক্ষক হিসেবে নেওয়া হয়। সেই সূত্রে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী সাকিলা খাতুনের অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পারভেজ ইসলাম তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। কিন্তু এখন বিয়ে করতে অস্বীকার করছেন। তাই বাধ্য হয়ে তিনি প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেছেন।
সাকিলার বাবা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা খুব অসহায় মানুষ। প্রাইভেট পড়ানোর সময় থেকেই ছেলেটি আমার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এখন মেয়েটি তাকে বিয়ে করতে চায় বলেই সে ছেলের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করছে।”
অভিযুক্ত পারভেজ ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বোতলাগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুন বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। রমজান মাস হওয়ায় ইফতারের পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ডিমলা উপজেলা-এ জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে পেট্রোল ও অকটেন বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে ভোগান্তি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত নিয়মে কার্ডধারীরা সহজে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এ ব্যবস্থা সুবিধাজনক হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান জানান, যারা এখনো ফুয়েল কার্ডের জন্য আবেদন করেননি, তাদের নির্ধারিত সময়ে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবেদনপত্রের সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স/লার্নার কার্ড বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নভিত্তিক সরকারি দপ্তরে আবেদন গ্রহণ করা হবে। আগামী সোমবার ও মঙ্গলবার আবেদন নেওয়া হবে এবং ৩ মে থেকে কার্ড বিতরণ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। ইউএনও বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহে অনিয়ম কমবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। উপজেলা প্রশাসন এ কার্যক্রম সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।
রংপুর জেলার অন্যতম ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেড ২০২০ সাল থেকে উৎপাদন বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। টানা লোকসান, আধুনিকায়নের অভাব এবং আখ সরবরাহ সংকটের কারণে মিলটির কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও পুনরায় চালুর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। মিল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কারখানার যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরেছে এবং অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে। তবুও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে গঠিত টাস্কফোর্স বন্ধ চিনিকলগুলো পুনরায় চালুর সুপারিশ করে। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২৭-২৮ মৌসুমে শ্যামপুর ও সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনরায় আখ মাড়াই শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে, শর্তসাপেক্ষে সরকারি সহায়তার মাধ্যমে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরে প্রস্তাবিত অর্থ বরাদ্দে অসম্মতি জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানি এবং অতীতে বিপুল ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় শ্রমিক ও আখচাষিদের অভিযোগ, পরিকল্পিত অবহেলার কারণে মিলটি লোকসানি অবস্থায় গেছে। তাদের দাবি, আধুনিকায়ন করলে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় লাভজনক করা সম্ভব। চিনিকল অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাবেক নেতা আবু সুফিয়ান বলেন, মিল বন্ধ হওয়ার পর হাজারো শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষি জীবিকার সংকটে পড়েছেন। তিনি দ্রুত বাজেটে পুনরায় চালুর জন্য অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৬৭ সালে উৎপাদন শুরু করা এই চিনিকল একসময় উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তবে ২০০০ সালের পর থেকে ধারাবাহিক লোকসানে পড়ে ২০২০-২১ মৌসুমে এটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
নগরকান্দা উপজেলা-এ গলায় ফাঁস দিয়ে ইতি আক্তার (২২) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত থেকে রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত কোনো এক সময় উপজেলার গাংজগদিয়া এলাকায় নিজ বাড়ির টিনশেড ঘরে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। নিহতের ছোট বোন সকালে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরে প্রবেশ করে তাকে নিচে নামানো হয় এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, ইতি স্থানীয় একটি জুট মিলে কাজ করতেন। ব্যক্তিগত ও মানসিক কারণে তিনি এ পথ বেছে নিতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।