মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করে ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার এ দাবি জানান এবং একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
উক্ত কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে এবং মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রবেশ করলেই তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানি সামরিক মহড়া ও ক্ষেপণাস্ত্র তৎপরতার প্রেক্ষিতে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন সংশ্লিষ্ট জলসীমা থেকে উল্লেখযোগ্য দূরত্বে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে ইরান হরমুজ প্রণালির পূর্বাংশসহ ওমান উপসাগরে তাদের কার্যকর সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘোষণার ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং মার্কিন উপস্থিতির ওপর তা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, উভয় পক্ষের অবস্থান আরও কঠোর হলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটে ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
লেবাননের শিয়া মিলিশিয়া হিজবুল্লাহ সোমবার ভোরের ঘণ্টাগুলোতে উত্তর ইসরায়েল ও দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকা জুড়ে তীব্র সামরিক অভিযান চালিয়েছে। রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মারকাটারি আক্রমণে ইসরায়েলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা ও চাপে পড়েছে। হাইফার দক্ষিণে অবস্থিত ‘মিশমার আল-কারমেল’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে গোষ্ঠীটি তাদের সামরিক সক্ষমতার পূর্ণ প্রয়োগ দেখিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের আল-আদাইসা ও কিরিয়াত শমোনা, আল মালিকিয়া এলাকায় হিজবুল্লাহ একাধিক রকেট হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। হিজবুল্লাহর দাবি, এই অভিযানে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। হামলার ধারাবাহিকতায় উত্তর ইসরায়েলের বসতিগুলো জনশূন্য হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহর সুসংগঠিত এই সাঁড়াশি হামলা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং ইসরায়েল–লেবানন সীমান্তে পাল্টাপাল্টি গোলারষণের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করে ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার এ দাবি জানান এবং একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। উক্ত কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে এবং মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রবেশ করলেই তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানি সামরিক মহড়া ও ক্ষেপণাস্ত্র তৎপরতার প্রেক্ষিতে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন সংশ্লিষ্ট জলসীমা থেকে উল্লেখযোগ্য দূরত্বে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে ইরান হরমুজ প্রণালির পূর্বাংশসহ ওমান উপসাগরে তাদের কার্যকর সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘোষণার ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং মার্কিন উপস্থিতির ওপর তা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, উভয় পক্ষের অবস্থান আরও কঠোর হলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটে ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে কূটনৈতিক চাপ এবং অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস বাজারে দীর্ঘমেয়াদি মন্দার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহের জন্য অপরিহার্য। ইরান পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিক আইন পাশ না হলেও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড ইতিমধ্যেই প্রণালিতে ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করেছে। চলাচলকারী জাহাজগুলোর নথি যাচাই ও ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে অনুমোদিত রুট দেওয়া হচ্ছে, আর এ জন্য নির্দিষ্ট জাহাজ থেকে ফি নেওয়া হচ্ছে। তবে ভারতের মতো কিছু দেশকে নিরাপদ পারাপারের জন্য কোনো অর্থ দিতে হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন (ইউএনসিএলওএস) অনুযায়ী, বিদেশি জাহাজের ট্রানজিট প্যাসেজের অধিকার রক্ষিত। উপকূলীয় দেশের শান্তি বা নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত না হলে ফি আরোপ বৈধ নয়। হরমুজ প্রণালির সংকীর্ণ অংশ ২১ নটিক্যাল মাইল প্রশস্ত, যার মাত্র ১২ নটিক্যাল মাইলই ইরানের জলসীমা। সুতরাং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ইরানের ফি আরোপ সীমিত ও বিতর্কিত। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার জাহাজ প্রণালির দু’পাশে আটকে আছে। এ পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও যুদ্ধকালীন কৌশলকে সামনে রেখে হরমুজ প্রণালির এই নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক সামুদ্রিক নীতি ও বাণিজ্যের জন্য নতুন অজানা ঝুঁকি তৈরি করছে।