মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপকে কৌশলগতভাবে ব্যর্থ বলে দাবি করেছে ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্র।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানবিরোধী কঠোর ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প যুদ্ধ পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ হারানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
উক্ত সূত্রের মতে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে গৃহীত সামরিক পদক্ষেপসমূহ প্রত্যাশিত ফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ইরানি জনগণের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষা ব্যবহারের সমালোচনা করে তা ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না করলে দেশটির অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ইঙ্গিত দেন, যা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সংঘাতের অবসান চায়; তবে তা কোনো একতরফা শর্তে নয়। সাম্প্রতিক বক্তব্য ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাপ, কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য ট্রাম্পকে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম হলে ক্ষমতা ভাইস প্রেসিডেন্টের হাতে চলে যায়। অ্যারিজোনার কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, “ট্রাম্প অবৈধ যুদ্ধ উসকানি দিচ্ছেন এবং ইরানের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করছেন, যা গত ৪৮ ঘণ্টায় সীমা অতিক্রম করেছে।” মিনেসোটার কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর বলেন, “এই অস্থির মানসিকতার ব্যক্তিকে অবিলম্বে ক্ষমতা থেকে সরানো প্রয়োজন।” নিউ মেক্সিকোর কংগ্রেসওম্যান মেলানি স্ট্যান্সবুরি যোগ করেন, “২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের সময় এসেছে, কংগ্রেস ও মন্ত্রিসভা এখনই পদক্ষেপ নিক।” ইলিনয়ের সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জো ওয়ালশ মন্তব্য করেন, “ট্রাম্প চিরস্থায়ীভাবে দেশ ও বিশ্বের জন্য কলঙ্ক। এখনই সংশোধনী প্রয়োগ করা উচিত।” ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফিও বলেন, “মন্ত্রিসভা এখনই সাংবিধানিক আইনজীবীদের সঙ্গে ২৫তম সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করা উচিত।” সবমিলিয়ে, ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে এই দাবিগুলো রাজনৈতিক উত্তেজনার তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে।
ইরান কুয়েতের উপকূলীয় বুবিয়ান দ্বীপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে স্যাটেলাইট সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলায় কুয়েতের উত্তরাঞ্চলের একটি আবাসিক এলাকায় ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি জানিয়েছেন, পূর্বের বারবার হামলার কারণে মার্কিন বাহিনী কুয়েতের আরিফজান থেকে বুবিয়ান দ্বীপে সরানো হয়েছিল। বুবিয়ান দ্বীপ উপসাগরের উত্তর-পশ্চিম অংশের কুয়েতের সবচেয়ে বড় দ্বীপ।
জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘতম ইন্টারনেট শাটডাউনের নজির গড়েছে ইরান, জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশব্যাপী এই ইন্টারনেট বন্ধ টানা ৩৭ দিন বা ৮৬৪ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে, যা পূর্ববর্তী সব জাতীয় পর্যায়ের শাটডাউনের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতার ফলে ইরানের সাধারণ জনগণ কার্যত বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা নাগরিক অধিকার ও তথ্যপ্রবাহের স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।