বিদেশে শ্রমিকদের উপার্জিত অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে মালয়েশিয়ায় এক বাংলাদেশি সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১৪ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের ১৫ দিনের বেতন বাবদ প্রায় ৪০ হাজার রিঙ্গিত নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারের নির্দেশে তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। তবে পরবর্তীতে অভিযুক্ত সুপারভাইজার মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া উক্ত অর্থ উত্তোলন করে শ্রমিকদের প্রাপ্য পরিশোধ না করে আত্মগোপনে চলে যান। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় বর্তমানে তার অবস্থান অজ্ঞাত রয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী শ্রমিকরা যথাযথ আইনি প্রতিকার প্রার্থনা করে বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়া এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্মাণ কোম্পানির পক্ষ থেকেও স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য এবং প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এ ধরনের আর্থিক প্রতারণার পুনরাবৃত্তি প্রবাসী শ্রমিকদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
বিদেশের মাটিতে পারিবারিক বিরোধ রক্তাক্ত পরিণতিতে পৌঁছেছে—ইতালিতে বসবাসরত দুই বাংলাদেশি সহোদরের মধ্যে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডে ছোট ভাই নিহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করেছে পারিবারিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইতালির লেইজ শহরে পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে হুমায়ুন শেখ ও নয়ন শেখ-এর মধ্যে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ রয়েছে, বড় ভাই হুমায়ুন শেখ ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে ছোট ভাই নয়ন শেখকে গুরুতরভাবে আঘাত করেন, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিডিও কলের মাধ্যমে দেশে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং নিহতের রক্তাক্ত দেহ প্রদর্শন করেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পরিবারে শোকের আবহ নেমে আসে এবং এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ইতালির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম ডাবলু, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, টঙ্গীবাড়ী থানা জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে বিদেশে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুসরণ করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ-এ প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে হোটেল ডি প্যালেসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সৌদি আরব বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দসহ সদস্যদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির প্রবাসী শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আশরাফ উদ্দিন শাহিন এবং সঞ্চালনা করেন মিজানুর রহমান ভূঁইয়া। প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সৌদি আরব বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক ফোরামের নবনির্বাচিত (২০২৬-২০২৮) কমিটির সদস্যদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, প্রবাসে অবস্থানরত গণমাধ্যমকর্মীরা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। পাশাপাশি তারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা-সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এ সময় প্রবাসীদের সৌদি আরবের আইন-কানুন মেনে চলার আহ্বানও জানানো হয়।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারি যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের সদস্য এবং চীনা অতিথিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সকালের অনুষ্ঠানে চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন এবং অন্তরীপ শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এতে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এই অংশটি ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বিকেলের অনুষ্ঠান পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়, যা দিবসটির তাৎপর্যকে আরও গভীর করে তোলে। আলোচনা সভায় ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ বেঙ্গল স্টাডিজের সভাপতি প্রফেসর দং ইয়ুচেন এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপের বাংলা বিভাগের পরিচালক ইয়ু গুয়াংয়ু বাংলা ভাষায় বক্তব্য প্রদান করেন। প্রফেসর দং ইয়ুচেন বলেন, "ভাষা আন্দোলন শুধু বাংলাদেশের ইতিহাস নয়, এটি বিশ্বের ভাষাগত বৈচিত্র্যের সংরক্ষণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।" ইয়ু গুয়াংয়ু যোগ করেন, "চীনে বাংলা ভাষার প্রসারে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি, এবং এই দিবসটি আমাদের অনুপ্রাণিত করে।" রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম তার বক্তব্যে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, "১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটে, যা পরবর্তীতে স্বাধিকার আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেয়। প্রবাসী বাংলাদেশীদের আমি আহ্বান জানাই, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করুন।" অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ-জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর ইফতার আয়োজন এবং আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে দিবসটির উদযাপন শেষ হয়। এই অনুষ্ঠানটি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও মজবুত করার পাশাপাশি প্রবাসীদের মধ্যে জাতীয় চেতনা জাগরূক করেছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত এই দিবসটি বিশ্বব্যাপী ভাষা সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে।