জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের পরিপ্রেক্ষিতে গণপরিবহন ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, যা রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে দেশব্যাপী কার্যকর হচ্ছে।
সংস্থাটির প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের ভাড়া আসনসংখ্যা ও দূরত্বভেদে সমন্বয় করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার ভাড়ার সংশোধিত হারও নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতিটি পরিবহনে নতুন ভাড়া তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্ধারিত ভাড়ার কাঠামোতে দেখা যায়, ঢাকা (গাবতলী) থেকে পঞ্চগড়, রংপুর ও দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের রুটগুলোতে ৫১ ও ৪০ আসনের বাসে পৃথক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে সায়েদাবাদ কেন্দ্রিক চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, বরিশাল, খুলনা ও টেকনাফ রুটেও নতুন হার কার্যকর হচ্ছে। মহাখালী রুটের আওতায় ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জগামী পরিবহনেও সংশোধিত ভাড়া প্রযোজ্য হবে।
আইনগত কাঠামোর দৃষ্টিতে, এই ভাড়া পুনর্নির্ধারণ সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল সরকার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের মূল্য বৃদ্ধি করে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পরিবহন ব্যয়ে প্রতিফলিত হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নজরদারি জোরদার করবে।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকার একটি বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিহত শিক্ষার্থীর নাম মুনিরা মাহজাবিন মিমো (২০১৯-২০ সেশন)। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে অর্থ লেনদেন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য পাওয়া গেছে। নোটের বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে তদন্তের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও ওই শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তবে তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রাপ্ত আলামত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
নীলফামারী জেলা-এ টানা বৃষ্টিপাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত থেকে অব্যাহত বৃষ্টিতে খাল-বিল ও নিম্নাঞ্চল পানিতে ভরে গিয়ে কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, ধানক্ষেত ও সবজি ক্ষেতসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। বিশেষ করে নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় বোরো ধান ও মৌসুমি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, টানা বৃষ্টিতে কাঁচা সড়ক কাদায় পরিণত হওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক এলাকায় খাল-বিল উপচে বসতবাড়ি ও গ্রামীণ সড়কে পানি ঢুকেছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডালিয়া পয়েন্টে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলে গভীর মেঘমালার প্রভাবে আগামী ৯৬ ঘণ্টায় রংপুর অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা জলাবদ্ধতা আরও বাড়াতে পারে। এদিকে বিকেল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম আজ রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ‘মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর সড়ক’-এর শুভ উদ্বোধন করেন। বঙ্গবাজার মোড় হতে গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজার পর্যন্ত ৫৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি বর্তমানে ফিনিক্স রোড নামে পরিচিত। উদ্বোধনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদ। তাঁর ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। এমন একজন পীর বুজুর্গ ব্যক্তিত্বের স্মরণে এই নামকরণ করতে পেরে আমি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, হাফেজ্জী হুজুরের আদর্শ ও অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাবে। প্রশাসক আরও জানান, স্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের অনুরোধ ও জনদাবীর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদয় সম্মতি ও দিকনির্দেশনায় এই উদ্যোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সড়ক উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রশাসক জনস্বাস্থ্য ইস্যুতে গুরুত্বারোপ করে বলেন, “ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আমাদের আগাম প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। এডিস মশা যেহেতু পরিষ্কার পানিতে জন্মায়, তাই জনগণের সচেতনতা এখানে সবচেয়ে জরুরি। আমি নগরবাসীকে অনুরোধ করব, আপনারা নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও ছাদ পরিষ্কার রাখুন যাতে কোথাও পানি জমে না থাকে।” মশক নিধন কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, কার্যকর কীটনাশক ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে নতুন ফগার মেশিন সংগ্রহের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অতীতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বর্তমান প্রশাসন জননিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।