মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় একটি ব্রিজের নিচ থেকে এক মানসিক ভারসাম্যহীন (ভবঘুরে) ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শ্যামনগর এলাকার একটি ব্রিজের নিচে খালের ভেতর কচুরিপানার মধ্যে লাশটি দেখতে পান স্থানীয়রা।
পরে খবর পেয়ে বাঘুলি-শান্তিপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তি গত প্রায় তিন মাস ধরে শ্যামনগর এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, তিনি প্রায়ই খাল-বিলের পানিতে নামতেন এবং তীব্র শীতের মধ্যে পানিতে নামার পর আর উঠতে না পারায় তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

স্থানীয় এক নারী জানান, নিহত ব্যক্তি নিজেকে রংপুর জেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।
বাঘুলি-শান্তিপুর তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আরবিকুল ইসলাম জানান, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
সাতক্ষীরা শহর সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার দুপুরে ভূমিকম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পনের উৎপত্তিস্থল জেলার আশাশুনি উপজেলায়। রিকটার স্কেলে যার মাত্রা ৫.৪ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে ভূমিকম্পনের মাঝারি মাত্রা থাকায় ঝাকুনিও ছিল প্রচণ্ড। কয়েক সেকেন্ডের এ ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে জেলার মানুষ। সাতক্ষীরার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যাবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিক্কার আলী জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ২৯ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিকটার স্কেলে যার মাত্রা ৫.৪। আর এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে। যেটি খুলনার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ও সাতক্ষীরার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। সাতক্ষীরার কাটিয়া এলাকার গৃহবধূ রোকসানা আক্তার জানান, তিনি তখন ঘরের মধ্যে টুকটাক কাজ করছিলেন। হঠাৎ তার মনে হচ্ছিল, তিনি ডানদিকে একবার তারপর বাম দিকে ঢলে পড়ছেন। আতঙ্কিত হয়ে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। আশপাশের কিশোর-কিশোরীসহ সর্বস্তরের মানুষের চিৎকার শুনেছেন তিনি। জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রব পলাশ জানান, শুক্রবার ওভারব্রীজ জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়ার শেষ মুহূর্তে হঠাৎ কেঁপে ওঠে মসজিদের জানালা। তীব্র ঝাঁকুনিতে মুসল্লিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেকে মসজিদেও বাইরে বেরিয়ে যায়। তিনি নিজেও টলে পড়ে যাচ্ছিলেন। শহরের কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা জাহারুল ইসলাম টুটুল জানান, তিনি মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়ছিলেন। দোতলা মসজিদটি দোল খাওয়া শুরু করলে তারা মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা শ্মশান ঘাটের প্রাচীর, তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের কয়েকটি কাঁচা ঘরবাড়ি, অর্ধ-শতাধিক বাড়ির দেয়ালে ফাটলসহ ছোট-ছোট ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওয়ারহাউজ ইনস্পেক্টর মো: নুরুল ইসলাম বলেন, এখনও পর্য়ন্ত জেলায় কোনো ফায়ার স্টেশনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ আসেনি। তবে কিছু স্থানে ভবনের ফাটলের খবর পেয়েছি। সেগুলি আমরা পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করব। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আক্তার জানান, ভূমিকম্পের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তিনি পাননি। তবে মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮ জন প্রার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। জাতীয় সংগীত শুদ্ধভাবে লিখতে না পারায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়নের পাঁচটি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ৩৮ জন আবেদন করেন। প্রথমে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। পরে মেধা পরীক্ষার অংশ হিসেবে ১৫ মিনিট সময় দিয়ে জাতীয় সংগীত লিখতে বলা হয়। তবে কোনো প্রার্থীই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে সক্ষম হননি। ফলে কাউকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়নি। ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাধারণ জ্ঞান থাকা আবশ্যক। অন্যদিকে, মেধার ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়ায় নিয়োগ কমিটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অনেকে। নিয়োগ বাছাই কমিটিতে উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম. আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, “মেধা যাচাইয়ের সময় দেখা গেছে, কোনো প্রার্থী জাতীয় সংগীত সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের মৌলিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।” উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরবর্তীতে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় আসন্ন ঈদুল ফিতরের জন্য যাত্রী পরিবহনের সুবিধা নিশ্চিত করতে ১০৬টি কোচ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে কারখানার স্বাভাবিক কাজের পাশাপাশি এই মেরামতের কাজ চলছে, যা ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাত্রা নিশ্চিত করবে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ২৯টি শপে শুরু হওয়া মেরামতের মধ্যে ৬০টি ব্রডগেজ (বড় লাইন) ও ৪৬টি মিটার গেজ (ছোট লাইন) কোচ রয়েছে। মাত্র ৩৯ কর্মদিবস হাতে নিয়ে কাজ শুরু করা হলেও, কর্মকর্তারা আশা করছেন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও বেশি কোচ মেরামত হতে পারে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, মেরামত করা কোচগুলো ১৪ মার্চের মধ্যে ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ বলেন, “প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক কোচ মেরামত করা হয়। এসব কোচ পশ্চিমাঞ্চল ও আন্তঃনগর রুটে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার হয়, যাতে যাত্রীরা নিরাপদে পরিবারে পৌঁছাতে পারেন।” এছাড়া চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর দ্বিতীয় রেলওয়ে কারখানাতেও ১০০টি মিটার গেজ কোচ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।