ইরানের কারাজে গ্রেফতার ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানিকে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর করা হবে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ ফাঁসির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা।
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, এরফানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তার কারাজ শহরের ফারদিস আবাসিক এলাকায়। রোববার (১১ জানুয়ারি) পরিবারের কাছে জানানো হয়, আদালত মাত্র দুই দিনের মধ্যে তার বিচার শেষ করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন।
সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, এরফানের পরিবারের সদস্যরা শেষবারের জন্য মাত্র ১০ মিনিটের দেখা করতে পারছেন। ইরানের কর্তৃপক্ষ এ মামলার নথি তার বোন, যিনি একজন নিবন্ধিত আইনজীবী, দেখার সুযোগও দেননি। সংস্থার মুখপাত্র আওয়ার শেখি বলেন,
“এ ঘটনা ইরানের সরকারের তৎপরতা প্রদর্শন করে, যা দেশের নাগরিকদের ওপর ভয়ভীতি ও দমন চালাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।”
২০২২ সালের পর ইরানে চলা বৃহত্তম সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয় মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনে অন্তত ২,৫৭১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও ১২ শিশু রয়েছেন। ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যাচ্ছেনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ফাঁসির সম্ভাবনা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন,
“যদি ইরান সরকার ফাঁসি কার্যকর করে, আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব।”
তবে এ পদক্ষেপের বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানাননি।
এই ঘটনা ইরানের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চ্যালেঞ্জের সঙ্গে দেশটির কঠোর দমননীতি উদ্ভাসিত করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) সকালে ইরানের রাষ্ট্র্রীয় সংবাদমাধ্যমে (আইআরআইবি) এক ঘোষণায় জানায়, তেহরানে নিজ কার্যালয়ে সংঘটিত হামলায় তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম BBC নিউজ ও CNN একই তথ্য প্রচার করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে খামেনির মৃত্যুর দাবি করেন। পরবর্তীতে Reuters জানায়, শনিবার সকালে তেহরানে পরিচালিত হামলার ঘটনাতেই এ মৃত্যু ঘটে। সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। খামেনির মৃত্যুতে দেশব্যাপী ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাঁর স্মরণে সাত দিনের সাধারণ ছুটি কার্যকর থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানেই শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অপারেশনে আঘাত হানার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস। নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, খামেনি ইতোমধ্যেই নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন এবং তার বর্তমান অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং আশপাশের এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে। এই হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সীমান্ত এলাকায় ইতোমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার ব্যর্থতার পর উভয় পক্ষই সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। ইতোমধ্যেই সংঘাত বৃদ্ধির শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তীব্র নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিল গেটস সম্প্রতি এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে অতীতের কিছু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, যা নতুন করে আলোচনায় এসেছে জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের প্রেক্ষাপটে। গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ‘টাউন হল’ সভায় তিনি স্বীকার করেন, অতীতে দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ওই নারীরা এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভুক্তভোগী ছিলেন না এবং তার সঙ্গে কোনো অবৈধ লেনদেন বা অনৈতিক কার্যক্রমে তিনি জড়িত ছিলেন না। ফাউন্ডেশনের এক মুখপাত্র লিখিত বিবৃতিতে স্বীকারোক্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, যৌন অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও এপস্টিনের সঙ্গে গেটসের একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছিল। গেটসের ভাষ্য অনুযায়ী, দাতব্য কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত আলোচনাই ছিল ওই বৈঠকগুলোর উদ্দেশ্য। সভায় তিনি বলেন, একজন দণ্ডিত অপরাধীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের সেই বৈঠকে যুক্ত করা ছিল “গুরুতর বিচারিক ও নৈতিক ভুল”। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশের পর গেটসের ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে মেহালন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস-এর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ নিয়েও নতুন করে জনমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।