আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ ও আশপাশ) আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। প্রায় ১৭ বছর পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
৫ আগস্টের পর থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছেন। দল গুছানো, ঘরে ঘরে পৌঁছানো, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তারা।
ইসলামী সমমনা জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগরের নায়েবে আমীর মো. খায়রুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান এবং খেলাফত মজলিশের রুহুল আমীন কাসেমী। স্থানীয় ভোটারদের মতে, জোটের মধ্যে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন খায়রুল হাসান। জোট থেকে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে আসনটি বিএনপির দখলে চলে যেতে পারে বলেও মত রয়েছে।
গাজীপুর-৫ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই আসনটি কালীগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পুবাইল ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৩ জন, ভোটকেন্দ্র ১২৪টি।
জামায়াত প্রার্থী মো. খায়রুল হাসান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয়েছে। তিনি আধুনিক ও সম্প্রীতিময় কালীগঞ্জ গড়তে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন চান।
এদিকে, এ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, গণফোরামসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছেন।
বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি চূড়ান্তভাবে প্রার্থী হিসেবে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকে মনোনয়ন দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দলীয় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই আসনটি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছেড়ে দেওয়ার পর শূন্য ছিল। বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন এবং দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান নিশ্চিত করেছেন, মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে এবং তা দলীয় প্রধান কার্যালয় থেকে ঘোষণা করা হয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-এর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৭টা ৪০ মিনিটে ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ! চাঁদাবাজ মুর্দাবাদ!’—যা প্রকাশের পরপরই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিক্রিয়া, মন্তব্য ও শেয়ার দেখা গেছে। এর আগে একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ শীর্ষক সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাস দেন। পোস্টটি অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা যায়। দুই নেতার ধারাবাহিক পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন ও সমালোচনার মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্র রাজনীতির অঙ্গনে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পাড়ায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কেন তিনি এমন চরম পথ বেছে নিলেন, তা নিয়ে এখনও রহস্য কাটেনি। বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, মেঘমল্লার বসু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তার শারীরিক অবস্থা এখন কিছুটা স্থিতিশীল। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই মর্মান্তিক পদক্ষেপ নিয়েছেন, সে বিষয়ে তার সহকর্মী বা সংগঠন থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও জানানো হয়নি।