সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অবিভাবক সমাবেশ, বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন আকন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রিপন বিশ্বাস, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকু।
অবিভাবক সমাবেশে অভিভাবকরা সন্তানদের শিক্ষাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। এরপর দিনব্যাপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিকেলে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক হেদায়েতুল্লাহ পলাশ।
দীর্ঘ ১২ বছরেও চালু হয়নি ৫০ শয্যার কোন কার্যক্রম। ৫০ শয্যাতো দুরের কথা ৩১ শয্যার লোকবলের সংকটই কাটেনি। পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা। চিকিৎসক না থাকায় দরিদ্র পীড়িত এই অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবা দারুণ ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের যেতে হচ্ছে সদর হাসপাতাল কিংবা মানহীন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে। এতে করে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন নানা ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জানা যায়, ভারতীয় সীমান্তবর্তী বকশীগঞ্জ উপজেলার তিনলাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স। এছাড়াও ভৌগলিক কারনে দুরত্ব কম হওয়ায় প্রতিবেশী শ্রীবরদী উপজেলা, রাজিবপুর-রৌমারী ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের ৬-৭ টি ইউনিয়নের মানুষ বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪-৫ শত রোগী এই হাসাপতালে চিকিৎসা সেবার জন্য আসেন। জনবল সঙ্কটের কারনে প্রায় ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতালটি এখন নিজেই অসুস্থ্য। দরিদ্র পীড়িত এ অঞ্চলের মানুষের কথা ভেবে ২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর ৩১ শয্যার এই হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই ৫০ শয্যা এ হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের ১২বছরেও চালু হয়নি ৫০ শয্যার কোন কার্যক্রম। দেওয়া হয়নি ৫০ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি। বাড়ানো হয়নি সুযোগ-সুবিধা। ৩১ শয্যার হাসপাতালে যে জনবল ও যন্ত্রপাতি থাকার কথা, সেটিও নেই। ফলে এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। জনবল সঙ্কট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম না থাকায় এ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইনডোর চালু করতে যে জনবল ও সাজ-সরঞ্জাম প্রয়োজন তার কোনটাই এখানে নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে হাসপাতালে আসা অধিকাংশ রোগীকে রেফার করা হয় ময়মনসিংহ কিংবা ঢাকায়। ফলে চিকিৎসার ব্যয় বহনে অপারগ রোগীদের বিনা চিকিৎসায় মরতে হচ্ছে। বহির্বিভাগে রোগীদের আসা-যাওয়া আর পরামর্শ নেয়াই হলো নামে মাত্র ৫০ শয্যা এ হাসপাতালের নিত্যদিনের চিত্র। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার জন্য শুধু প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ চিকিৎসা কর্মকর্তা থাকার কথা ২৪ জন। ২৪টি পদের মধ্যে প্রায় সব কটি পদই শূন্য। জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (নাক,কান,গলা), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু),জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু),এ্যান্সেথেটিক্স বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ফলে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারন রোগীরা। এছাড়াও ইনডোর মেডিকেল অফিসার,প্যাথলজিষ্ট, নার্সিং সুপারভাইজার, মিডওয়াইফ, মেডিকেল টেকনিক্যাল ল্যাব, ফার্মাসিষ্ট, প্রধান সহকারী, হিসাব রক্ষক, কার্ডিওগ্রাফার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ইমার্জেন্সী এটেনডেন্ট, ল্যাবরেটরী এটেনডেন্ট, ওটি বয়সহ একাধিক পদ শূন্য রয়েছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে দুইটি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা থাকলেও রয়েছে একটি। সেটিও মাঝে মধ্যেই বিকল হয়ে থাকে। ফলে জুরুরী প্রয়োজনে রোগীদের প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে অতিরিক্ত কয়েকগুন বাড়তি ভাড়া দিয়ে যেতে হয় হাসপাতালে। অপারেশন থিয়েটার রুম থাকলেও নেই মেশিনপত্র। ছোট খাটো কোন অপারেশনের জন্য যেতে হয় জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা প্রাইভেট ক্লিনিকে। আল্ট্রাসনোগ্রাম থাকলেও তার ব্যবহার হয়নি কোনদিন। ইসিজি মেশিন রয়েছে তবে জরুরী প্রয়োজনে বেশিরভাগ সময়ই থাকে বিকল। জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বরাদ্ধ না পাওয়ায় উদ্বোধনের ১ যুগপরও ৫০ শয্যার কোন কার্যক্রমই চালু হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মর্কতা ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ছাড়া কোন চিকিৎসক নেই এখানে। উপজেলার ৭ ইউনিয়নের সাব সেন্টারে সাতজন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। চিকিৎসক না থাকায় যে কোনো রোগী এলেই জরুরী বিভাগ থেকে তাদের স্থানান্তর করা হয় জামালপুর, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা ঢাকায়। গুরুতর রোগী নিয়ে বিপাকে পড়ে যায় দরিদ্র পরিবারগুলো। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা ফারাজীপাড়া গ্রামের রোকসানা বেগম,আলাল উদ্দিন, চন্দ্রাবাজ এলাকার রিমা বেগম সহ বেশ কয়েকজন রোগী জানান, এই হাসপাতালে ডাক্তার পাওয়া যায়না। জুরুরী বিভাগে যে ওষুধ দেন তার বেশিরভাগই বাইরে থেকে কিনতে হয়। এতবড় হাসপাতাল অথচ ডাক্তার নেই। বগারচর ইউনিয়নের সারমারা থেকে আসা মধ্যবয়সী নারী রোকেয়া বেগম বলেন,তার মেয়ের পেটের ব্যাথার জন্য হাসপাতালে এসেছেন। দীর্ঘক্ষন বসে থেকে ডাক্তার না পেয়ে নিরুপায় হয়ে বাইরের ক্লিনিকে ডাক্তার দেখান তিনি। ডাক্তার না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ উল হাসান বলেন, নামেই ৫০ শয্যা হাসপাতাল। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গেলে ডাক্তার পাওয়া যায় না। জরুরী বিভাগে থাকা ওয়ার্ড বয় ও ঝাড়ুদাররা ফোন করলে কখনো ডাক্তার আসে, আবার কখনো আসেন না। ততক্ষনে রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এতে রোগীসহ স্বজনরা পড়েন বেকায়দায়। হাসপাতাল আছে, ডাক্তার নেই বিষয়টি অত্যান্ত দু:খজনক। তাই দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রেজাউল ইসলাম বলেন, তিনি এবং একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ছাড়া হাসপাতালে কোন ডাক্তার নেই। এছাড়াও ৭ ইউনিয়নের সাব সেন্টারে সাতজন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে একজনও নেই। ফলে চিকিৎসক না থাকায় বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা দারুন ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে “দেশের চাবি আপনার হাতে” স্লোগানকে সামনে রেখে গাজীপুরের কালীগঞ্জে গণভোট বিষয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে বালীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম কামরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন। সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কালীগঞ্জ সার্কেল মো. আসাদুজ্জামান, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন, গাজীপুর-৫ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, এনজিও কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সভায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার গণভোট সম্পর্কিত উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ভোটার সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভোট প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সানন্দবাড়িতে টুপকার চর থেকে খোলাবাড়ি পর্যন্ত ১.৮৩০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ঠিকাদার দায়সারা কাজ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারিতে সড়কটি সময়মতো ও মানসম্মতভাবে নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা এলজিইডি অফিস জানিয়েছে, সড়কটি নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ. স্মার্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা এই কাজটি নির্বাচনী সময় ভোটারদের যাতায়াত সুবিধার জন্য পুনরায় শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, বক্স কাটিংয়ের পর পানি দিয়ে রোলিং করে কিউরিং করতে হয়। ঠিকাদার তা করেনি এবং সেন্ট ফিলিংও ন্যায় অনুযায়ী করেনি। এছাড়া সড়কে রোলার মেশিন ব্যবহার করা হয়নি এবং নিম্নমানের রাবিশ খোয়া স্থাপন করা হয়েছে। এতে সড়ক দ্রুত ক্ষয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সড়কটি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ঠিকাদারকে মানসম্মতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদার মঞ্জুরুল ইসলাম নয়া ফোনে যোগাযোগে আসে নি। তাদের দাবি, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করলে সড়ক দ্রুত ও ভালো মানের হবে।