পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট—ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এ অভ্যন্তরীণ বিরোধ দেখা দিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা ওরফে তরু একাংশ নেতাকর্মী নিয়ে জেএসএস (সন্তু গ্রুপ)-এ যোগ দিয়েছেন এবং দল বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়েছেন বলে প্রচার হয়।
তবে এই ঘোষণাকে ‘ভিত্তিহীন ও গঠনতন্ত্রবহির্ভূত’ দাবি করেছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে খাগড়াছড়ি শহরের মধুপুরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি চাকমা বলেন, সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিটন চাকমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে তারা দলীয় পদ হারানোর আশঙ্কায় ২০–২৫ জন অনুগত সদস্য নিয়ে খাগড়াছড়ি ত্যাগ করেন।
তিনি আরও বলেন, তরুর নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে সাধারণ সম্পাদকের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিমূলক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে দল বিলুপ্তির ঘোষণা রয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সম্মতি ছাড়া এমন ঘোষণা অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) বিলুপ্ত হয়নি এবং দলীয় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে। সহ-সভাপতি সমীরণ চাকমা (চারমিং) আপাতত ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এ সময় সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক অমর জ্যোতি চাকমা, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপন চাকমা ও কেন্দ্রীয় সদস্য সবিনয় চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনায় আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির কারণে নগরবাসীর নিরাপত্তাহীনতা, খুন, ছিনতাই, চুরি ও মাদক কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে এবং পরিস্থিতি উন্নয়নের দাবি জানিয়ে “নিরাপদ খুলনা চাই” উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠান শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় পিকচার প্যালেস মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি সরদার বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী এস এম দেলোয়ার হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট মোঃ বাবুল হাওলাদার। এতে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুর রহমান, সাংবাদিকরা, নাগরিক নেতারা এবং সংগঠনের অন্যান্য কার্যনির্বাহী সদস্যরা। বক্তারা বলেন, ২৪ সালের জুলাই পরবর্তী খুলনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির পথে। খুন, চুরি, রাহাজানি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র প্রদর্শন প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। প্রশাসনের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়। রাজনৈতিক দলগুলোও সন্ত্রাস দমনে যথাযথ ভূমিকা নিচ্ছে না। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি যেমন নাগরিকদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে, তেমনি খুলনার ব্যবসা ও অর্থনীতিকেও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
দেওয়ানগঞ্জ প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেওয়ানগঞ্জ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. শামছুল হুদা (রতন)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি নুর-ই-ইলাহী, সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর-আল-বশির, কোষাধ্যক্ষ মো. হাসান আলী, ভারপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ আবু সাঈদ গালিব এবং সাধারণ পরিষদের সদস্য মো. রিফাত আলীসহ অন্যান্যরা। কম্বল বিতরণকালে সভাপতির বক্তব্যে মো. শামছুল হুদা বলেন, ১৯৭১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৮ বছর দেওয়ানগঞ্জে কোনো সাংবাদিক সংগঠন ছিল না। ২০২০ সালে একদল তরুণ সাংবাদিকের উদ্যোগে সাংবিধানিকভাবে দেওয়ানগঞ্জ প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, সংগঠনটি পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন, সবার সহযোগিতায় দেওয়ানগঞ্জ প্রেস ক্লাব দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নরসিংদী জেলা কারাগারে এক কয়েদীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মৃত কয়েদীর নাম বিল্লাল হোসেন। তার বাড়ী নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার আনন্দীর মোড় এলাকায়। মৃত বিল্লাল হোসেন নামের এই কয়েদীর মাদক মামলায় দেড় বছরের সাজা হয়েছিল। সকালে কারারক্ষীরা তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। নরসিংদী জেলা কারাগারের জেলার হুমায়ুন কবির জানান হঠাৎ করে কয়েদী বিল্লাল হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। জেলা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। লাশ ময়না তদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল থেকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।