নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কয়েকশ কোটি টাকা মূল্যের ভূ-সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে। দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় সরকারি সম্পদ বেহাত হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, দিনাজপুর–সৈয়দপুর–ঢাকা মহাসড়কটি ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে নির্মাণ করা হয়। সে সময় প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সড়কটি শহরের মধ্য দিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে পার্বতীপুর মোড় থেকে কুন্দল গ্রামের হাড়ি মামুন শাহ ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ৯২০ শতক জমি অবৈধ দখলে চলে গেছে।
বর্তমানে ওই এলাকায় প্রতি শতক জমির বাজারমূল্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি বেদখল হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। সার্ভেয়ার ও সমাজসেবক ইয়াসিন আলী সরকার জানান, সিএস, এসএ ও বিএস নকশা অনুযায়ী সড়কের টপ ২৬ ফুট হলেও সোল্ডার ও স্লোপিংসহ মোট প্রস্থ ৬০ ফুটের বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে রাস্তার দুই পাশের অংশ সম্পূর্ণ দখলে চলে গেছে, ফলে যানবাহন ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক নির্মাণ বিধি অনুযায়ী টপ, সোল্ডার ও স্লোপিং মিলিয়ে সড়কের প্রস্থ ৬০ ফুটের বেশি হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বিশিষ্টজনদের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা সওজের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বিপুল অর্থ আয় করছেন। দখল উচ্ছেদ না করায় শহরের যানজট নিরসনে সরকারকে আলাদা করে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করতে হয়েছে, এতে হাজার একর আবাদি জমি নষ্ট ও কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
নীলফামারী সড়ক বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জুয়েল আহমেদ জানান, পুরাতন নথি পর্যালোচনা করলে অধিগ্রহণকৃত জমির সঠিক হিসাব পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, অবৈধ দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হবে এবং জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর প্রেসক্লাবে সভাপতি সামিউল আযম মনির-এর ওপর ঢুকে হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চার যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। বহিস্কৃতরা হলেন: • সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙুর • যুগ্ম আহবায়ক হাফিজ আল আসাদ • বাবলুর রহমান • মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন সদস্য আব্দুর রহিম তাদের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া। এ ঘটনায় প্রতিবাদে পৃথক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। • সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব আয়োজন করে নিউ মার্কেট মোড়ে মানববন্ধন, সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল কাশেম। বক্তারা ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, আসাদুজ্জামান, দেশ টিভির স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনসহ অনেকে। • শ্যামনগর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে সাংবাদিক মনিরের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল। বক্তারা বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশের পর হামলা চালানো হয়েছে। এটি মেনে নেওয়া যায় না। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খালেদুর রহমান জানান, হামলায় জড়িত বাবলুর রহমান ও আব্দুর রহমান গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পিরোজপুরের নেছারাবাদে চুরির অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে মারধরের পর আব্দুল্লাহ আল মামুন সবুজ (৩৩) নামের এক অটোচালক বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২ মার্চ) রাতে শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত সবুজ উপজেলার সুটিয়াকাঠী ইউনিয়নের বালিয়ারী গ্রামের স্থানীয় ও অটোরিকশা চালক ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, রোববার (২ মার্চ) তাকে দুই দোকান থেকে চুরির অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে আনা হয় এবং বেদম মারধর করা হয়। বাড়িতে ফেরার পর মানসিক লজ্জায় সবুজ বিষ পান করেন। স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, তার স্বামী চোর নয়, মিথ্যা অভিযোগ চাপিয়ে তাকে মারধর করা হয়েছে। ওয়ার্ড চৌকিদার ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ দাবি করেছেন, সবুজ স্বেচ্ছায় চুরির কথা স্বীকার করেছিলেন। নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, বিষপানের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, নিহতের পরিবার দায়িত্বশীলদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম-এর জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বেরবাড়ি গ্রামে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সোমবার ভোরে ভারত থেকে তার মরদেহ টাঙ্গাইলে পৌঁছায়। গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। রবিবার রাতে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। সোমবার দুপুর ১২টায় টাঙ্গাইল জেলা সদর হেলিপ্যাডে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল ৩টায় সখীপুরের বেরবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত জটিলতা, মাল্টি অর্গান ফেইলিওর ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুর তিন দিন আগে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার পর মরদেহ দেশে আনা হয়। অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম টাঙ্গাইল আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ছিলেন। তিনি করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদের দুইবারের ভিপি ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি ভারতে অবস্থান করছিলেন। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।