সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, স্বাধীনতার স্বার্থকতা রক্ষা এবং জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে দেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অপরিহার্য। তিনি দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের আরডিআরএস বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনি ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শেখ হাসিনা ট্যাংকে চড়ে বা সংবিধান বাতিল করে ক্ষমতায় আসেননি, তবে স্বৈরাচারী কাঠামো ব্যবহার করে তিনি ক্ষমতাকে দানবীয় রূপ দিয়েছেন। এ কাঠামো বহাল থাকলে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসা যে কেউ স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, কেবল আইন বা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই স্বৈরাচার থেকে মুক্তি মিলবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অনেকাংশে নির্ভর করে রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক আচরণ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা করেন এবং এ ক্ষেত্রে সরকার, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত সরকার। নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার—এই তিন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। ফলে সংস্কারের পক্ষে সরকার প্রচারণা চালাতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিখোঁজের চার দিন পর জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকায় বিসিক শিল্পনগরীর পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তি মো. আলমগীর হোসেন, তিনি জনতা ব্যাংকের ভৈরব শাখায় কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর লম্বাহাটি গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন পরিবারসহ ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বসবাস করতেন। গত রোববার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে আটটার দিকে তিনি অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। তবে পরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরিবারকে জানায়, সেদিন তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। এরপর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেননি। এ ঘটনায় ওই দিনই তার স্ত্রী তাছলিমা আক্তার ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্থানীয় লোকজন বিসিক শিল্পনগরীর পাশের একটি স্থানে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং প্রাথমিকভাবে আলমগীর হোসেন হিসেবে শনাক্ত করে। নিহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার জানান, পারিবারিক কিছু বিষয়ে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। কিছুদিন আগে তার স্বামী নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকদ জানান, মরদেহের পাশ থেকে একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে বিষের বোতল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহে একটি পায়ে সামান্য আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনানুগ তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার সাতঘড়িয়া এলাকায় মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) রাতে একটি ক্লিনিক চুরি করার চেষ্টা করার সময় জনতার হাতে আটক দুই যুবক বুধবার (০৪ মার্চ) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহতরা সাগর (৩২) ও সানারুল (৩৪), যারা গোয়ালী মান্দ্রা বেদে সম্প্রদায়ের সদস্য। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) রাতেই স্থানীয়রা দুই চোরকে চুরির সময় ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। বুধবার (০৪ মার্চ) সকালে পুলিশ আহতদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। লৌহজং থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, “গণপিটুনির ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। হত্যার অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার গড়ইয়া গ্রামে দুই দিনব্যাপী শ্রী শ্রী গোপালচাঁদ মতুয়া আশ্রমের ২৮তম বার্ষিক হরিনাম মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে ১০ জন গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অধ্যাপক তুষার কান্তি বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সম্মাননা পান: ডাক্তার তমাল হালদার, সাগর কুমার টিটু, ইঞ্জিনিয়ার মালিক নাল বিশ্বাস, লিটন চন্দ্র হালদার, সাংবাদিক সুখেন্দু এদবর, গোপাল চন্দ্র মন্ডল, ইঞ্জিনিয়ার দিলীপ কুমার হালদার, সমীর হালদার, ইঞ্জিনিয়ার সমিরন হালদার এবং শ্রীমতি কাকলি রানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ড. সুভাষচন্দ্র সুতার, ডাক্তার দিলীপ চন্দ্র হাওলাদার, শংকর লাল মৃধা, ভবানী শঙ্কর বল, আশীষ কুমার মৃধা এবং প্রদীপ কুমার মল্লিক। প্রথম দিন সকাল থেকে গোপালচাঁদ শিক্ষার্থী সংঘ ও মাতৃ সংঘের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুরো দুই দিনের মহাযজ্ঞ ও মহোৎসবে গড়ইয়া ও রাজাপুরের শত শত ভক্তবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা এই ধরনের আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ও পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান।