পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ হলেও নীলফামারীর সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। হাসপাতালের দেয়ালে পানের পিক, যত্রতত্র আবর্জনা, সিঁড়ি দিয়ে সাইকেল ও মোটরসাইকেল ওঠানো এবং রোগী ও স্বজনদের মোবাইল ও টাকা-পয়সা চুরির অভিযোগে হাসপাতালের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সৈয়দপুর ছাড়াও দিনাজপুরের পার্বতীপুর, খানসামা, চিরিরবন্দর, রংপুরের তারাগঞ্জ ও নীলফামারী সদর উপজেলার রোগীরা এ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। প্রতিদিন আউটডোরে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী সেবা পেলেও চিকিৎসক, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

রোগীর স্বজনদের অবহেলার কারণে দেয়ালে পানের পিক ফেলায় হাসপাতালের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ। রোগীর স্বজন জিকরুল হক জানান, কয়েকদিন আগে হাসপাতালের তিনতলা থেকে তার সাইকেল চুরি হয়েছে। শফিক খান বলেন, তার মায়ের ব্যাগ, ওষুধ ও টাকা চুরি গেছে। রোগী জান্নাত জুহি জানান, তার মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাজমুল হুদা বলেন, হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু কর্তৃপক্ষের নয়, সবার দায়িত্ব। তিনি সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
খুলনায় আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির কারণে নগরবাসীর নিরাপত্তাহীনতা, খুন, ছিনতাই, চুরি ও মাদক কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে এবং পরিস্থিতি উন্নয়নের দাবি জানিয়ে “নিরাপদ খুলনা চাই” উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠান শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় পিকচার প্যালেস মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি সরদার বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী এস এম দেলোয়ার হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট মোঃ বাবুল হাওলাদার। এতে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুর রহমান, সাংবাদিকরা, নাগরিক নেতারা এবং সংগঠনের অন্যান্য কার্যনির্বাহী সদস্যরা। বক্তারা বলেন, ২৪ সালের জুলাই পরবর্তী খুলনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির পথে। খুন, চুরি, রাহাজানি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র প্রদর্শন প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। প্রশাসনের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়। রাজনৈতিক দলগুলোও সন্ত্রাস দমনে যথাযথ ভূমিকা নিচ্ছে না। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি যেমন নাগরিকদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে, তেমনি খুলনার ব্যবসা ও অর্থনীতিকেও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
দেওয়ানগঞ্জ প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেওয়ানগঞ্জ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. শামছুল হুদা (রতন)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি নুর-ই-ইলাহী, সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর-আল-বশির, কোষাধ্যক্ষ মো. হাসান আলী, ভারপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ আবু সাঈদ গালিব এবং সাধারণ পরিষদের সদস্য মো. রিফাত আলীসহ অন্যান্যরা। কম্বল বিতরণকালে সভাপতির বক্তব্যে মো. শামছুল হুদা বলেন, ১৯৭১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৮ বছর দেওয়ানগঞ্জে কোনো সাংবাদিক সংগঠন ছিল না। ২০২০ সালে একদল তরুণ সাংবাদিকের উদ্যোগে সাংবিধানিকভাবে দেওয়ানগঞ্জ প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, সংগঠনটি পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন, সবার সহযোগিতায় দেওয়ানগঞ্জ প্রেস ক্লাব দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নরসিংদী জেলা কারাগারে এক কয়েদীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মৃত কয়েদীর নাম বিল্লাল হোসেন। তার বাড়ী নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার আনন্দীর মোড় এলাকায়। মৃত বিল্লাল হোসেন নামের এই কয়েদীর মাদক মামলায় দেড় বছরের সাজা হয়েছিল। সকালে কারারক্ষীরা তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। নরসিংদী জেলা কারাগারের জেলার হুমায়ুন কবির জানান হঠাৎ করে কয়েদী বিল্লাল হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। জেলা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। লাশ ময়না তদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল থেকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।