মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতার প্রার্থিতা নিয়ে তৈরি সব জটিলতা সমাধান হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আপিল বিভাগ রিতার বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল খারিজ করে তাঁকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথে আর কোনো বাধা নেই।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রিতার বিরুদ্ধে আনা ঋণখেলাপি ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে আপিল আবেদন খারিজ হয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
এর আগে ১২ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান আতা রিতার প্রার্থিতা বাতিলের জন্য আপিল করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, রিতা ঋণখেলাপি এবং বিদেশি নাগরিকত্বধারী। তবে কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
গত ৪ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা ও নথি যাচাই শেষে মানিকগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফরোজা খানম রিতাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
আফরোজা খানম রিতা আপিল শুনানির পর বলেছেন, “আইনের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা ছিল। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে রায় এসেছে। এখন আমি মানিকগঞ্জ-৩ আসনের মানুষকে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই।”
নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তের ফলে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দের পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও স্পষ্ট হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথে সব আইনগত বাধা কাটল শেরপুর-২ (নকলা–নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর। রোববার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ড তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়। ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র পূর্বে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বাতিল করা হয়েছিল। এরপর তিনি আপিল করলে বিষয়টি পুনঃপর্যালোচনা করে বোর্ড তার পক্ষে রায় দেন। মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার খবরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারীর’ চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান ও প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম শহরের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে এসব দুষ্কৃতকারীকে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান ও প্রবেশ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ৩৩০ জনের তালিকায় আরও নাম রয়েছে রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, সাইফুল আলম লিমন, সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে গাজী শফিউল আজিম, শৈবাল দাশ, সাহেদ ইকবাল, জহরুল আলম জসিম, মোহাম্মদ হোসেন হিরণ, নাজমুল হক, হাসান মুরাদ, গিয়াস উদ্দিন, নূর মুস্তাফা, আবুল হাসনাত বেলাল, মোবারক হোসেনসহ নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলর। তালিকায় সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী, তাঁর সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন (ছোট সাজ্জাদ), মোবারক হোসেন, মোহাম্মদ রায়হান, খোরশেদ, ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না শারমিন, ইসমাইল হোসেন, শহিদুল ইসলাম বুইস্যা, নুরুল আলম উরফে হামকা আলম। পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী সাজ্জাদ, শহিদুল ইসলামসহ সন্ত্রাসীরা চাঁদা ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য নগরে প্রকাশ্য অস্ত্রবাজি করে আসছে। খুনের ঘটনাও করছে। এ দিকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করে আসছেন। ২০০০ সালের ১ অক্টোবর একে-৪৭ রাইফেলসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন বড় সাজ্জাদ হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলীফাইল ছবি এদিকে তালিকায় নগর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর নামও রয়েছে। এর মধ্যে নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা, বাকুলিয়া থানা বিএনপির নেতা মোর্শেদ খান, কোতোয়ালির যুবদল নেতা হাসান, পাহাড়তলীর মাসুমের নাম রয়েছে। তালিকায় সন্ত্রাসী ছাড়াও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নাম থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার অপরাধ অভিযান ফয়সাল আহম্মেদ সাংবাদিকদরে বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ও গোপনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করে আসছে। তাই তাদের বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম ও হত্যার শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেছেন, “অনেক সন্তান আজও অপেক্ষায় আছে—তাদের হারানো বাবা একদিন ফিরে এসে দরজায় কড়া নাড়বেন। বহু মা এখনো আশায় আছেন, হারানো সন্তান আবার ‘মা’ বলে ডাকবে। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা রাষ্ট্রের জন্য দায়বদ্ধতার বিষয়।” সভায় তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দলের হাজারো নেতা-কর্মী নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ ও গুমের শিকার হয়েছেন। বিএনপির কর্মীরা এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান ধারণ করেছেন এবং দলে ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচার কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না। তারেক রহমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রয়োজনীয়তা ও নির্বাচনের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, “গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গুম ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকারদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। শহীদ ও গুমের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।” তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠিত হলে শহীদ পরিবার ও তাদের আত্মত্যাগ স্মরণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে।