কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সতর্ক করেছেন, দেবিদ্বারে চাঁদাবাজদের কোনো স্থান নেই। তিনি বলেন, বাজারের নির্ধারিত সীমানার বাইরে চাঁদা নেওয়া হলে ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশকে খবর দিতে হবে।
শপথ গ্রহণের পর রাতে নিজের নির্বাচনি এলাকায় এসে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে হাসনাত বলেন, “যে ব্যক্তি চাঁদা তুলবে, তাকে পাবলিক আটক করতে পারে এবং পুলিশে হস্তান্তর করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যারা চাঁদাবাজদের আশ্রয় দেবে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ সময় তিনি কাঁচাবাজারের ইজারাদারদের সতর্ক করেন, নির্দিষ্ট বাজার এলাকার বাইরে কোনো চাঁদা নেওয়া চলবে না। এমপি বলেন, দেবিদ্বারে শান্তি ও ব্যবসায়িক নিরাপত্তা বজায় রাখাই তার অগ্রাধিকার।
এর আগে তিনি নিজ নির্বাচনি এলাকায় শহীদ পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বুধবার সকাল থেকে তিনি ১১টি শহীদ পরিবারের বাড়িতে খোঁজখবর নেন এবং জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
নির্বাহী সরকারের প্রভাববহুল দুর্নীতি দমন পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক এনসিপি নেতা ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, “যে কমিশন সরকারের দয়ায় গঠিত হয়, তা কখনোই স্বতন্ত্রভাবে সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না।” জারা উল্লেখ করেছেন, সরকার একটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে চাইছে যা দুদককে প্রাথমিক অনুসন্ধান ছাড়াই বড় আর্থিক দুর্নীতি বা অর্থপাচারের মামলা দায়েরের ক্ষমতা দিত। এছাড়া, একটি স্বতন্ত্র বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাবও স্থগিত রাখা হয়েছে। জারা বলেন, “হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির ক্ষেত্রে প্রাথমিক অনুসন্ধানকে ব্যবহার করে অপরাধীদের পালানোর সুযোগ দেওয়া অযৌক্তিক। একটি কার্যকর দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা অবশ্যই সরকারের প্রভাবমুক্ত হতে হবে।” তিনি সতর্ক করেছেন, সরকার যদি স্বাধীন বাছাই কমিটি গঠন না করে, তবে দুদক হবে “সরকার নির্ভরশীল” এবং বিরোধী দলকে দমন করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হবে। তিনি আইন বাতিলের পরিবর্তে সংশোধনের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন সংস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জমে উঠছে রাজধানীতে বিরোধী জোটের গণভোট সমর্থক বিক্ষোভের প্রস্তুতি। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তরে সমাবেশের ডাক দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। সংসদের ষষ্ঠ দিনে, বুধবার (১ এপ্রিল) বিরোধী দলীয় সদস্যরা মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর প্রস্তাবিত জুলাই সনদ আদেশ না দেওয়া এবং বিরোধী নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগ তুলে হঠাৎ সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। বিরোধী নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে আমরা গভীর বিস্মিত এবং আহত।” বিক্ষোভ-সমাবেশের মূল দাবি গণভোটের রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সমাবেশ দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে আরও দৃশ্যমান করবে এবং সরকারের প্রতি চাপ বাড়াবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ইংরেজিতে সংক্ষিপ্ত একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে মাত্র তিনটি শব্দ লেখা ছিল—“Get out Chuppu”। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, ‘Chuppu’ শব্দটি দিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ওই নামে পরিচিত। তবে এই মন্তব্যের বিষয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, সংসদের অধিবেশন চলাকালে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও প্রতিবাদের জেরে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই সংক্ষিপ্ত মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।