মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার পুনর্গঠন ও যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্বনেতাদের নিয়ে ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠনের উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন। হাঙ্গেরি ও ভিয়েতনাম ইতিমধ্যে সদস্যপদ গ্রহণ করেছে, এবং ভারতসহ আরও কয়েকটি দেশ আমন্ত্রণ পেয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, স্থায়ী সদস্যদের জন্য ১০০ কোটি ডলার অনুদান বাধ্যতামূলক, তবে তিন বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যদের আর্থিক দায়বদ্ধতা নেই। সংগৃহীত অর্থ গাজা পুনর্গঠনে ব্যবহার হবে।
শান্তি পর্ষদ গাজার নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা তদারক করবে, যার মধ্যে রয়েছে নতুন ফিলিস্তিনি কমিটি গঠন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
হোয়াইট হাউসের নির্বাহী কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জামাতা জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল অন্তর্ভুক্ত। কাতার, মিসর ও তুরস্কের প্রতিনিধিরাও পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ইসরায়েল আপত্তি জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা তাদের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে তুরস্কের ভূমিকা হামাসকে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী জাহাজ এম/টি টিফানিতে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পেন্টাগন জানায়, ইরানকে উপকরণগত সহায়তা প্রদানকারী নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজ ও অবৈধ নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এ অভিযান তারই অংশ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত যেকোনো জাহাজ বা নেটওয়ার্ক বিশ্বের যেকোনো জলসীমায় শনাক্ত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগরসহ সংবেদনশীল সামুদ্রিক রুটে একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্য-সম্পর্কিত সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো অধরাই রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও মৌলিক বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো নিষ্পত্তিহীন রয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের প্রতি আস্থাহীনতার কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। ইরানি স্পিকারের দাবি, সামরিক ক্ষেত্রে ইরান কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের দাবি আংশিকভাবে মেনে নেওয়ার প্রেক্ষিতেই সীমিত সময়ের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় পুনরায় সংঘাত শুরু করতে পারে—এমন আশঙ্কায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার না হলে এ জলপথে জাহাজ চলাচল সীমিত বা বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার ধারা অব্যাহত থাকলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা পরবর্তী বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি; ফলে পরিস্থিতি অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়া-এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তিনটি মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনি প্রাণ হারান বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে জোহর রাজ্যের পাসির গুদাং এলাকায় মাসাই–কংকং সড়কে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত লেনে প্রবেশ করেন এবং একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের পর তিনি সড়কে পড়ে গেলে পেছন থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেল তাকে চাপা দেয়, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটিকে মালয়েশিয়ার সড়ক পরিবহন আইন ১৯৮৭-এর আওতায় তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ বলেছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।