আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী নীলফামারীর চারটি আসনের বৈধ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান তালিকা প্রকাশ করেন। মোট প্রার্থী ৩০ জন। নীলফামারী-১ আসনে ১০, নীলফামারী-২ এ ৬, নীলফামারী-৩ এ ৩ ও নীলফামারী-৪ এ ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ ও বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রচারণা শুরু হবে।
নীলফামারী-১: ডোমার ও ডিমলা উপজেলার ২১ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ১০ জন প্রার্থী দাখিল করেছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল, পরে আপিলে বৈধ হয়েছে। প্রার্থীরা হলেন: জামায়াতের মাওলানা আব্দুস সাত্তার, বিএনপি জোটের শরীক মাওলানা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আব্দুল জলিল, জাতীয় পার্টি মেজর (অব.) তছলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্ট (বিএনএফ) সিরাজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিস মো. সাদ্দাম হোসেন, বাসদ (মার্কসবাদী) মো. রফিকুল ইসলাম, জেপি (মঞ্জু) মখদুম আজম মাশরাফী, ন্যাপ জেবেল রহমান গানি ও স্বতন্ত্র রফিকুল ইসলাম।
নীলফামারী-২: জেলা সদর উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ৭ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল, একজন আপিলে বৈধ হয়। প্রার্থীরা হলেন: বিএনপির শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, জামায়াতের আল ফারুক আব্দুল লতীফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাসিবুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সারোয়ারুল আলম বাবু, বিএনএফ সিরাজুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ।
নীলফামারী-৩: একটি পৌরসভা ও ১১ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। চারজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, জাতীয় পার্টি রোহান চৌধুরী ও ইসলামী আন্দোলনের আমজাদ হোসেনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল। আপিলের পর শুধুমাত্র আমজাদ হোসেন বৈধ হয়েছেন। প্রার্থীরা: বিএনপি সৈয়দ আলী, জামায়াত মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী ও ইসলামী আন্দোলন আমজাদ হোসেন।
নীলফামারী-৪: সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ক্যান্টনম্যান্ট বোর্ড নিয়ে গঠিত। ১২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, ৪ জন বাতিল হয়েছিল, ৩ জন আপিলে বৈধ হয়। এখন ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন: বিএনপি মো. আব্দুল গফুর সরকার, জামায়াত হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম, ইসলামী আন্দোলন শহিদুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি মো. সিদ্দিকুল আলম ও মো. জয়নাল আবেদীন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি নুর মোহাম্মদ, বাসদ মার্কসবাদী মাইদুল ইসলাম, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এস.এম মামুনুর রশিদ, জোবায়দুর রহমান হীরা ও রিয়াদ আরফান সরকার।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নগরীর টাউনহল এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের জন্য বিভাগীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি। সভায় প্রধান অতিথি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু এতদিন জনগণকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। গণভোটে অংশগ্রহণ করে জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন করতে পারবে। তিনি সংবিধানের উচ্চকক্ষ, রাষ্ট্রপতি নিয়োগ ও ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। বিশেষ অতিথি বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, গণভোটের পক্ষে প্রচারণা ও স্বাধীন, ন্যায়বিচারপরায়ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা জরুরি। অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন, গণভোটের প্রধান লক্ষ্য রাষ্ট্রব্যবস্থার বিভিন্ন সিস্টেমের সংস্কার, সংবিধানের ফাঁক-ফোকর বন্ধ করা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। সভায় ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, বিভাগীয় দপ্তরের প্রধানগণ, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কিশোরগঞ্জে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, গণভোটের পক্ষে সরকার সচেতন প্রচারণা চালাচ্ছে; যারা প্রশ্ন তুলছে, তারা মূলত পলাতক শক্তি। উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, জুলাই-আগস্টে আত্মহুতি দেওয়া যাদের সহযোদ্ধা ছিল, তাদের উদ্যোগে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তারা এখন গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ জুলাই কাফেলার সঙ্গে আছেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে তা প্রমাণ করবেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সরকার। ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের সমর্থন প্রকাশ করবেন, এরপর স্থানীয় পর্যায় থেকে নির্বাচিত প্রার্থীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জুলাইযোদ্ধারা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপদেষ্টা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি ও উপকারভোগী নারীদের সঙ্গে গণভোট সচেতনতা বিষয়ে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এছাড়া তিনি বাজিতপুর, কুলিয়ারচর ও ভৈরব উপজেলার একাধিক গণভোট সম্পর্কিত কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেন।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে হতদরিদ্র এক বিধবা নারীর বসতঘর। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া উত্তরপাড়া এলাকায় হেনা বেগমের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। হেনা বেগমের স্বামী মোগল মিয়া বহু বছর আগে মারা যান। নিজ পরিশ্রমের আয়ে তিনি সংসার চালিয়ে আসছিলেন। আগুনে কোনো প্রাণহানি না হলেও বসতঘর ও আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং পরে শিবপুর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শিবপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।