পঞ্চগড় জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জেলা আইনজীবী সমিতিতে ই-বেইল বন্ড বিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মশালায় ডিজিটাল বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ই-বেইল বন্ড ব্যবহারের পদ্ধতি, সুবিধা, কার্যকারিতা এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়সহ বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারী আইনজীবীরা হাতে-কলমে ব্যবহারিক ধারণা লাভ করেন।

জেলা ও দায়রা জজ ইমদাদুল হক জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবার ই-বেইল বন্ড চালু করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ২১ জানুয়ারি থেকে দেশের আরও আটটি জেলায়, যার মধ্যে পঞ্চগড়ও রয়েছে, এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

কর্মশালা পরিচালনা করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তার, যেখানে পদ্ধতির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকবৃন্দ, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইন কর্মকর্তাগণ এবং জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চগড় জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি সময়ের দাবি, যা বিচার ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করবে।
গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্র মাহাবুল হোসেন রনি (১৪)-এর হত্যা ও লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় গ্রেফতার ছাব্বির আহম্মেদ (১৯) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, জঙ্গলে গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় রনিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। পিবিআই জানায়, মাহাবুল ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজের পর নিখোঁজ হন। পরদিন স্থানীয়রা জঙ্গলে আগুনে পোড়া অবস্থায় এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেন, যা পরিবারের সদস্যরা মাহাবুল হিসেবে শনাক্ত করেন। নিহতের দাদা জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পিবিআই তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে ৫ মার্চ ভবানীপুর এলাকা থেকে ছাব্বিরকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “পেশাদার তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।”
আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া যায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিস। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির। তিনি জানান, বুধবার (৪ মার্চ) রাতেই প্রশাসনিক আদেশে ওই তিন কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বুধবার সকালে পূর্বঘোষণা ছাড়াই সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমি কার্যালয় পরিদর্শনে যান ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সরকারি নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান তিনি। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর একজন কর্মচারী এসে অফিসের তালা খুললে প্রতিমন্ত্রী ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে তখনো কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না। ঘটনার পর বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন, উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক এবং অফিস সহকারী জান্নাতী। নাসির উদ্দিন ও ওমর ফারুককে আড়াইহাজার উপজেলায় এবং জান্নাতীকে বন্দর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে প্রতিমন্ত্রী ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং জনগণের সেবা প্রদানে ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি দপ্তরে দায়িত্বহীনতা, অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পেশাগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য প্রফেসর ডা. মো. জাওয়াদুল হক দাবি করেছেন, নিয়মবহির্ভূত চাপ ও ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করার পর তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত “প্রকল্পে ৯ শতাংশ ঘুষ দাবি” অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বুধবার (০৪ মার্চ) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, কল ও ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে তাকে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। শারীরিক লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকির ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষিত এবং বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান ‘জেনিথ করপোরেশন’ ও ‘তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রকল্পের টেন্ডারে অংশ নেয়নি। তাতে ঘুষ দাবির অভিযোগ যুক্তিসঙ্গত নয়। উপাচার্য আরও জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) অনুযায়ী অনিয়ম চাপানো হচ্ছিল, যা তিনি মানেননি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে তাকে পদচ্যুত করার চেষ্টা করছে, যাতে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া যায়। তবে প্রশাসন নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না। চলমান মেগা প্রকল্প স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং অপপ্রচার ও হুমকির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, জেনিথ কর্পোরেশনের মালিক আতাউর রহমান টিপুর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।