আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম ভালুকাবাসীর উদ্দেশে এক বার্তায় নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে “যুব নাগরিক কমিটি” গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
বার্তায় তিনি বলেন, তিনি নিজেও একজন সাধারণ নাগরিক এবং ভালুকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নাগরিক সেবা পেতে মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। বয়স্ক ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি, সরকারি অনুদান ও প্রণোদনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো অনেক সময় কাঙ্ক্ষিতভাবে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জনগণের কাছে পৌঁছায় না।
ডা. জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, সরকারিভাবে নানা উদ্যোগ থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব ও হস্তক্ষেপের কারণে সেসব সেবা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়। ভালুকায় অনিয়ম ও প্রভাবমুক্ত একটি পরিবেশ গড়ে তুলতেই তিনি সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন বলে জানান।
তিনি জানান, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভালুকায় একটি প্রতিনিধিত্বশীল যুব নাগরিক কমিটি গঠন করা হবে। এতে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, তরুণ সমাজ, আলেম সমাজ ও নারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কমিটির মূল উদ্দেশ্য হবে নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, এই কমিটি সরাসরি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে এবং প্রতিটি কাজের অগ্রগতি ও সিদ্ধান্ত নিয়মিতভাবে জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হবে, যাতে মানুষ জানতে পারে কী হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে এবং কেন হচ্ছে।
বার্তার শেষে ডা. জাহিদুল ইসলাম ভালুকাবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমেই একটি উন্নত ও মানবিক ভালুকা গড়া সম্ভব। তিনি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্লোগান উচ্চারণ করেন—
“জিতবে এবার শাপলা কলি।”
কেন্দ্রীয় নির্দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর ৫ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলালসহ ৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হেলাল দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তিনি বরিশাল সদর ৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমকে সমর্থন দেন এবং বলেন, যারা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে চাচ্ছেন, তারা এখন ইসলামী আন্দোলনকে ভোট দেবেন। একই দিনে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন: • বরিশাল ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) – বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) প্রার্থী মোঃ তারিকুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুন্সি মোস্থাফিজুর রহমান • বরিশাল ৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) – জাতীয় পার্টির খরুল আহসান • বরিশাল সদর ৫ – এবি পার্টির মোঃ তারিকুল ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর মোয়াযযম হোসাইন হেলাল প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে জানানো হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে বরিশালে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ পূজা ফ্রন্ট বরিশালের উদ্যোগে এ সভা আয়োজন করা হয়। সভায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট মহানগরের আহ্বায়ক এলবার্ট রিপন বল্লভের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন শিকদারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে সৈয়দপুরে জামায়াতের নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে কেন্দ্রীয় জামায়াতের পক্ষে নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ, সৎ নেতৃত্ব ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমকে প্রার্থী করা হয়েছে। সমাবেশে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে কর্মসূচি ছিল উৎসবমুখর। প্রার্থী হিসেবে বক্তব্যে হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বলেন, নীলফামারী-৪ আসনের মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি কাজ করতে চান। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় একটি কল্যাণমূলক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করেন তিনি। সমাবেশে বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও ১০ দলীয় জোটের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি জানান।