কক্সবাজারের রামুতে স্থানীয়দের দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা একটি পুকুরপাড় থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এক অবিস্ফোরিত জাপানি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তৎপরতায় বোমাটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে চারপাশে সুরক্ষা বেষ্টনী প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বহু বছর ধরে বোমার উপর দাঁড়িয়ে কাপড় ধোয়া ও যাতায়াত করলেও বিস্ফোরক সামগ্রী হিসেবে তা প্রথমে চিনতে পারেনি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছেন, এটি প্রায় ৩০০–৩২০ কেজি ওজনের, দৈর্ঘ্য ১১৯ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ১১৭ সেন্টিমিটার বিশিষ্ট শক্তিশালী বোমা।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সেনাবাহিনী বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে এবং স্থানীয়দের নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সতর্ক করে দিয়েছে, বোমাটি নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় থাকবে।
সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক অভিযান বনদস্যুদের কার্যক্রমে লাগাম দিচ্ছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) শেলা নদী সংলগ্ন মূর্তির খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ওসমান গণি (৩৮) কে আটক করেছে। অভিযানের সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি একনলা বন্দুক, ১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়। ওসমান গণি সাতক্ষীরা জেলার থানার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে দস্যু দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কোস্টগার্ডের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান জানান, জব্দকৃত আলামত ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সৌদি খেজুর বিতরণ করা হয়েছে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সৌদি আরবের কিং সালমান মানবিক ত্রাণ সহায়তা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পাঠানো খেজুর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তত্ত্বাবধানে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব খেজুর বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মাবুদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পিআইও মো. আব্দুল মাবুদ জানান, উপজেলার বিভিন্ন হাফেজিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও বৃদ্ধাশ্রমে মোট ১৬৪ কেজি খেজুর বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্বচ্ছতার সাথে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও প্রতিনিধিদের হাতে এসব খেজুর তুলে দেওয়া হয়েছে এবং এ কার্যক্রমে কোনো জনপ্রতিনিধিকে সম্পৃক্ত করা হয়নি।
রাজধানীর মিরপুরে একটি বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা (২২)-এর জানাজা বুধবার (১১ মার্চ) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার মৃত্যুতে নিজ এলাকা নিচু কলোনীতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সকাল সাড়ে ১০টায় সৈয়দপুর উপজেলার নিচুকলোনী ঈদগাহ মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহরের হাতিখানা কবরস্থানে তার নানির কবরের পাশে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়-স্বজন ও বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন। অনন্যা ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলার নিচু কলোনী বিমানবন্দর পূর্বপাড়া এলাকার অটোরিকশা চালক আব্দুল হান্নানের বড় মেয়ে। দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পরিবারের প্রধান ভরসা। ছোট বোন নুরে জান্নাত সুবর্ণা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অনন্যা সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে স্থানীয় সানফ্লাওয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনার সময়ই তিনি বিমান বাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদানের সুযোগ পান। প্রায় চার বছর আগে বাহিনীতে যোগ দিয়ে সিলেটে প্রথম কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরিবার জানায়, অটোরিকশা চালক বাবার সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিছুদিন আগে বাবার অটোরিকশা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে ওঠেন অনন্যা। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাকাটা করতে সোমবার মিরপুর-২ এলাকার একটি শপিং মলে গিয়েছিলেন তিনি। দুপুরে ভবনটির তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তিনি ভেতরে আটকা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতেই তার মৃত্যু হয়। অনন্যার ফুফু ফরিদা পারভীন বুলবুলি বলেন, “আমি তাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতাম। চাকরিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিদায় দিতে কষ্ট হয়েছিল, কিন্তু এভাবে হারাবো কখনো ভাবিনি।” সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা জানান, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায় সে বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এদিকে অনন্যার অকাল মৃত্যুতে সৈয়দপুরের নিচু কলোনীসহ আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।