দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের মদনের চর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া যুবক মোহাম্মদ আপেল মিয়ার (অটোচালক) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে বাড়ির পাশের একটি আখক্ষেত থেকে লাশটি পাওয়া যায়। নিহত আপেল ওই এলাকার ফুতুর আলির ছেলে।
নিহতের বড় ভাই আফরোজ আলী জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে প্রতিবেশী আবদুল্লাহর ছেলে রিপন অটোরিকশা ভাড়া করার কথা বলে আপেলকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে সে আর বাড়ি ফেরেনি। এ ঘটনায় শুক্রবার রিপনের বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডি করা হয়। জিডির পর থেকেই রিপন ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে আখক্ষেতে পড়ে থাকা লাশটি প্রথম দেখতে পান নিহতের বোনজামাই নূর আলী। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহাম্মদ জানান, দুই দিন আগে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। পরিহিত পোশাক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখে স্বজনরা লাশটি আপেলের বলে শনাক্ত করেন। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
রাজধানী ঢাকার, গুলশান ১ এ, কনকর্ড রিয়েল এস্টেটের একটি সুউচ্চ নির্মাণাধীন ভবনের উপর থেকে পড়া লোহার রড মাথায় ঢুকে প্রাণ হারানো 'আশফাক চৌধুরি পিপলু নামে এক পথচারী। এ মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বাদি হয়ে কনকর্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামাল, চেয়ারম্যান এস এম কামাল উদ্দিন, প্রজেক্ট ইনচার্জ আল আমিন সহ অজ্ঞাত ১০/১২ জন ব্যক্তির নামে, দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারা অনুযায়ী অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অপরাধে মামলা দায়ের করেছেন। কিন্তু এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের বরুমছড়ায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের খাবার খেয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে গুলশানে ওই নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে লোহার রড পড়ে আশফাকের মাথায় আঘাত লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রংপুরের তারাগঞ্জে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে দুইজন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার পলাতক আসামি মেহেদী হাসান (৩০)কে গ্রেফতার করেছে র্যাব। ঢাকার শাহবাগের শহীদ ওসমান হাদী চত্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী। গ্রেফতার মেহেদী হাসান তারাগঞ্জ উপজেলার ফরিদাবাদ এলাকার ইছাহাক আলীর ছেলে। র্যাব জানায়, ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট রাতে সয়ার বুড়িরহাট এলাকায় রুপলাল রবিদাস ও তার জামাই প্রদীপ লালকে চোর সন্দেহে আটক করে স্থানীয়রা। পরে বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে গিয়ে তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রুপলাল মারা যান এবং প্রদীপ লাল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় ১০ আগস্ট রুপলালের স্ত্রী ভারতী রানী তারাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির ছায়া তদন্তের এক পর্যায়ে র্যাব-১৩ ও র্যাব-১০ যৌথ অভিযানে রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার শাহবাগ থেকে প্রধান আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলায় নিখোঁজের ছয় দিন পর এক কলেজছাত্রের হাত–পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চন্দ্রপ্রভাবাঘ গ্রামে একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ফজলে রাব্বি (২২) চন্দ্রগঞ্জ কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি হাজিরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল এবং প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহের সূত্র ধরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা চন্দ্রগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।