নীলফামারী জেলায় কোটি কোটি কিউবিক ফিট আবাদি জমির টপ সয়েল কেটে ইটভাটা ও সেচ ক্যানেলের পাড় নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং প্রতিবছর ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। প্রশাসনিক তদারকির অভাবে জেলায় প্রকাশ্যে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ফসলি জমির ওপরের উর্বর মাটি কেটে অনুমোদনহীন ট্রাক্টর ও মাহিন্দ্রায় করে ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর, জলঢাকা ও ডোমার উপজেলায় এ চিত্র সবচেয়ে বেশি। কোথাও জমির মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও পাশের জমিও দেবে গেছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, জমির ওপরের ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি মাটির স্তরেই মূল পুষ্টিগুণ থাকে। এই টপ সয়েল কেটে নেওয়া হলে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আগের অবস্থায় ফিরতে ১০–১৫ বছর সময় লাগে। হিসাব অনুযায়ী, নীলফামারী জেলায় প্রতিবছর প্রায় ২০ কোটি কিউবিক ফিট টপ সয়েল কাটা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলায় বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৫৩টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দপুর উপজেলাতেই রয়েছে ৩১টি ইটভাটা, যার অধিকাংশই অবৈধ। কাঁচামালের চাহিদা মেটাতে আশপাশের আবাদি জমিই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, টপ সয়েল বিক্রি করে সাময়িক লাভ হলেও দীর্ঘমেয়াদে জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। সেচ দিলে পানি ধরে না, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ইটভাটার ধোঁয়ায় ফসলেরও ক্ষতি হচ্ছে। বাধা দিলে অনেক ক্ষেত্রে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন,
“তিন ফসলি জমির মাটি কাটার কোনো আইনগত অনুমতি নেই। মাটি কাটতে হলে অবশ্যই প্রশাসনের অনুমোদন প্রয়োজন।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন,
“টপ সয়েল ধ্বংস হলে শুধু জমি নয়, পুরো কৃষি ব্যবস্থাই ক্ষতির মুখে পড়ে।”
নীলফামারীতে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় জুলাই বিপ্লবী ছাত্রজনতা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বড় বাজার থেকে শুরু হওয়া মিছিল ডিসি মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সমাপ্ত হয়। সমাবেশে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছাইয়েদুজ্জামান বাবু, যুগ্ম সদস্য সচিব ইমরান শাহ্, জাতীয় যুবশক্তির জেলা আহ্বায়ক সৈয়দ মেহেদী হাসান আশিকসহ অন্যান্য ছাত্রনেতারা বক্তব্য রাখেন। ছাত্রনেতারা অভিযোগ করেন, গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার উপর হামলার মামলার আসামী, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা আজও প্রকাশ্যে ঘুরছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এইরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই অনতিবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) নিয়োগে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে নথিভিত্তিক অনুসন্ধানে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই একজন শিক্ষককে নিয়োগপত্র দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যা শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, বিদ্যালয়টি বেসরকারি থাকা অবস্থায় ৩০ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মো. জাহাঙ্গীর কবিরকে সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) পদে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। অথচ ওই পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় পাঁচ দিন পরে, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে দৈনিক নীলকথা পত্রিকায়। বিধিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি, বোর্ড গঠন ও পরীক্ষা শেষে নিয়োগ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এখানে উল্টো প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। নথিতে আরও দেখা যায়, নিয়োগ বৈধ দেখাতে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের প্রসঙ্গ আনা হলেও সময়রেখায় রয়েছে অসংগতি। খণ্ডকালীন নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকতা রক্ষায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও যোগদানের আবেদন গ্রহণ করা হয়। এছাড়া নিয়োগ বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিজি) প্রতিনিধির উপস্থিতির কোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিধি অনুযায়ী, ডিজি প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ আইনসিদ্ধ নয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, বিজ্ঞপ্তির আগেই নিয়োগপত্র দেওয়া এবং খণ্ডকালীন সিদ্ধান্তের আগে স্থায়ী নিয়োগ পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা বিষয়টি প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানান। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিল্পী আক্তার বলেন, বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। নথি পর্যালোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম প্রামাণিক জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টি ৩০ আগস্ট ২০১৭ সালে সরকারি হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি হওয়ার সময় কেবল এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আলোচিত শিক্ষক এমপিওভুক্ত না হয়েও বর্তমানে সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন।
শৈলকুপা উপজেলার গাবলা এলাকায় ট্রাক চাপায় মুফা মালিথা (৪০) নামে এক বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে তিনি ভাটই বাজার থেকে ঝিনাইদহ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। স্থানীয়রা জানায়, মহাসড়কের গাবলা এলাকায় পেছন দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মুফা মারা যান। ঝিনাইদহ আরাপপুর হাইওয়ে থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি আটক করার চেষ্টা চলছে।